খুশি জেলে পরিবার, নিষেধাজ্ঞায় মাছ ধরার প্রবণতা কমবে?
মে ১৮ ২০২৬, ২৩:৩২
মার্চ-এপ্রিলে ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। প্রতিবছর এসময়ে জেলেরা ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা পেলেও, চলতি বছর মিলছে নতুন সাহায্য। নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলে পরিবার পাচ্ছে আটা, ভোজ্য তেল, মশুর ডাল, চিনি, লবণ এবং আলু। তবে নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে এনজিওর ঋণ মওকুফের দাবি জেলেদের। এসব সহায়তা কার্যক্রমের ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবে বলে আশা মৎস্য বিভাগের।
দেশের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও জাটকা সংরক্ষণে প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীসহ ৬ জেলার ৫টি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। এই সময়ে জেলেরা যাতে নদীতে মাছ ধরতে না যান, সেজন্য ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চালের পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো জেলেদের তেল, ডাল, আটা, চিনি, আলু ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে সরকার।
সরকারি সহায়তার আওতায় প্রতিটি জেলে পরিবারকে ১২ কেজি আটা, ১০ লিটার ভোজ্য তেল, ৮ কেজি মসুর ডাল, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি লবণ এবং ১৬ কেজি আলু দেয়া হচ্ছে। এতে খুশি জেলে পরিবারগুলো। জেলেদের দাবি, এমন সহায়তা থাকলে অবরোধের সময় নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
জেলে কাদের মাঝি বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা শুধু চাল পেতাম। কিন্তু এখন চালের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী পেয়ে আমরা খুশি। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। বর্তমান সরকার সেই দাবি পূরণ করেছে, এজন্য তাদের ধন্যবাদ।
মাঝি বারেক ঘরামী বলেন, চালের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মালামাল পেয়ে আমরা আশা করছি, অবরোধের সময় তেঁতুলিয়া নদীপাড়ের কোনো জেলে নদীতে মাছ ধরতে যাবে না। তবে এই সময় যদি এনজিও ঋণের কিস্তি মওকুফ বা স্থগিত করা হয়, তাহলে আমাদের আরও উপকার হবে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, জেলেদের কথা বিবেচনা করেই সরকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে। আশা করছি, অবরোধের সময় জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে যাবে না।
পটুয়াখালী জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। এর মধ্যে তেঁতুলিয়া নদীসংলগ্ন জেলার চার উপজেলার ৩ হাজার ৮০০ জেলের মাঝে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।









































