অপচিকিৎসায় গর্ভের বাচ্চা নষ্ট, কোনদিন মা হতে পারবেনা গৃহবধু
মে ১৮ ২০২৬, ১৮:২০
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি॥ বরিশালের গৌরনদীতে এক প্রসূতিকে অপচিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে চিকিৎসক মোঃ জামাল হুসাইন, ক্লিনিক মালিক মহিউদ্দিন শরীফ ও ক্লিনিক ম্যানেজার লিটনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার আশোকাঠী গ্রামের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে রুনা আক্তার (৩২) ৬ মাসের গর্ভবতী। গত ৩ মে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গৌরনদী-আগৈলঝাড়া রোডস্থ মৌরি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তির পর ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক মোঃ জামাল হুসাইন আমার মেয়েকে দেখে কোন ধরনের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়াই ৪টি ইনজেকশন ও ওষুধ লিখে দেয়। পরবর্তীতে ওই ইনজেকশন আমার মেয়ের শরীরে পুশ করার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্তক্ষরণের বিষয়টি চিকিৎসক জানানো হলে তিনি কোন ধরনের চিকিৎসা না দিয়ে আমাকে বলেন যে, আপনার মেয়ের গর্ভের সন্তান পূর্বে মারা গেছে তাকে শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বিষয়টি ক্লিনিকের মালিক-ম্যানেজার জানালে তারাও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পরবর্তীতে আমাদের ভুল বুঝিয়ে আমার মেয়েকে মূমূর্ষ অবস্থায় বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। শেরই বাংলা মেডিকেলে আমার মেয়েকে আইসিউতে রাখা হয় এবং সিজার করে পেটের মৃত বাচ্চা বাহির করা হয়।
অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, মৌরি ক্লিনিকে আমার মেয়েকে অপচিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যে কারনে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে। আমার মেয়ের জরায়ু কেটে ফেলতে হয়েছে। এমনকি শেরই বাংলা মেডিকেলের চিকিৎসক বলেছেন, আমার মেয়ে আর কোনদিন বাচ্চা জন্ম দিতে পারবেনা। তাদের এই অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি বর্তমানে অসুস্থ আছি। সুস্থ হয়ে অন্যান্য জায়গায় অভিযোগ দায়ের করবো।
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক জামাল হুসাইন মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। কি মীমাংসা হয়েছে জানতে চাইলে ক্লিনিক মালিকের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ জানিয়ে লাইন কেটে দেন। পরবর্তীতে ফোন দেওয়া হলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ক্লিনিক মালিক মহিউদ্দিন শরীফ ও ম্যানেজার লিটন জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। তবে কি মীমাংসা হয়ে তা তারা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এবিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা নেই।
এবিষয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফখরুল ইসলাম মৃধা বলেন, এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।








































