সরকারি সহায়তা পেলে বদলে যেতে পারে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’
মে ১৭ ২০২৬, ১৮:২৪
কলাপাড়া প্রতিনিধি: সাগরকন্যা কুয়াকাটার পূর্বদিকের শেষ প্রান্ত। যেখানে সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে ভূমির সান্নিধ্যে। রয়েছে মন উজাড় করা সারি সারি ঝাউবন। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে বালুর মাঠ। হঠাৎ দেখলে মনে হয়, “এ যেন অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুইজারল্যান্ড”।
জানা যায়, কুয়াকাটার বিচ দিয়ে পূর্বদিকে গঙ্গামতি বিচ পয়েন্ট। এছাড়া কুয়াকাটা বেড়িবাঁধ দিয়ে কয়েক কিলোমিটার পূর্বদিকে মোটরসাইকেল কিংবা যেকোনো যানবাহনযোগে আসা যায় গঙ্গামতি স্পটে। সেখান থেকে আরও দুই-তিন কিলোমিটার পূর্বে গেলেই চোখে পড়বে মিনি সুইজারল্যান্ড। যার একপাশে বিশালাকার সাগর আর অপরপাশে রয়েছে সারি সারি ঝাউবন। এর মাঝখানে লাল কাঁকড়ার চর। যেখানে ছুটোছুটি করছে শত শত লাল কাঁকড়া। মানুষ কিংবা যানবাহনের শব্দ পেলেই টুস করে ঢুকে যায় গর্তে। সাগরের গর্জন আর লাল কাঁকড়াদের লুকোচুরি দেখতে দেখতেই চলে আসবে কাঙ্ক্ষিত “মিনি সুইজারল্যান্ড”। এখানকার সৌন্দর্যে যেকারও মন ভালো হতে বাধ্য। তবে, দুর্গম যাতায়াত, পর্যটকদের ওয়াশরুম এবং খাবারের সংকটের নিরসন করা এখন সময়ের দাবি।
পটুয়াখালী থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক নাঈমুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় রুবেল খলিফা জানান, মিনি সুইজারল্যান্ডে ঘুরতে এসে তাদের খুব ভালো লাগছে। পড়ন্ত বিকেলে সমুদ্রের গর্জন এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। তবে, ওয়াশরুমের ব্যবস্থা ও খাবারের ব্যবস্থা থাকলে আরও ভালো হতো বলে তারা জানান।
মিনি সুইজারল্যান্ডের ব্যবসায়ী তরিকুল বলেন, সরাসরি সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় সমুদ্রের পাড় দিয়ে এখানে আসতে হয়। এতে বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের আসতে খুব অসুবিধা হয়। এসময় স্পটটি প্রায় পর্যটকশূন্য থাকে। এছাড়া, ওয়াশরুমের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় নারী পর্যটকদের। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সড়ক ব্যবস্থা, ওয়াশরুম এবং খাবার হোটেলের ব্যবস্থা করলে মিনি সুইজারল্যান্ড একটি অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পাবে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এবং মিনি সুইজারল্যান্ডসহ সবগুলো পর্যটন স্পট উন্নতিকরণে সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এসব কাজ শুরু হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।









































