কড়া হুঁশিয়ারি সুবিধাবাদীদের

‍এবার বড় পরিবর্তনের হাওয়া বিএনপিতে

মে ১৬ ২০২৬, ০১:০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুদীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসায় নিজেদের ঘর গোছাতে শুরু করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে দলটি এখন নিয়মিত কাউন্সিলে ফেরার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে দলের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোয়ও নতুন এবং মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সাংগঠনিক অভিভাবক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে, যার মূল লক্ষ্য হলো ‘ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী’ বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক ও সৃজনশীল রাজনীতির ধারা তৈরি করা। বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টিই বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও বিগত আওয়ামী সরকারের দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে দাবি নেতাকর্মীদের। কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই কমিটি বহাল রয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে আমাদের কাউন্সিল করতে প্রতিটি পদে পদে বাধা দেয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ের সম্মেলনগুলো পণ্ড করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আমরা নিয়মিত কাউন্সিলে ফিরতে চাই। সবাই কাজ করছে, হাইকমান্ড থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।’

সহযোগী সংগঠনগুলোর পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এখন সাজসাজ রব। ছাত্রদল, যুবদল ও কৃষক দলের শীর্ষ নেতারা এখন প্রধানমন্ত্রীর গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছেন। যুবদল: সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না জানান, হাইকমান্ড যেকোনো সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা বর্তমানে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন এবং নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ছাত্রদল: মেধাভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির ওপর জোর দিয়ে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, গত ১ মার্চ বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আগামীতে যারা নেতৃত্বে আসবে, তাদের দক্ষতার পাশাপাশি সৃজনশীল রাজনীতিতে দক্ষ হতে হবে। কৃষক দল: সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল জানিয়েছেন, মূল দলের নির্দেশনায় প্রতিটি অঙ্গ সংগঠনের কাউন্সিল এখন প্রক্রিয়াধীন। খুব দ্রুতই দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

বিএনপি হাইকমান্ড থেকে স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে যে, পুনর্গঠিত কমিটিতে কোনো ‘সুবিধাবাদী’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’র জায়গা হবে না। বিশেষ করে যারা দুর্দিনে দলের পাশে ছিল না, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে না বসানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানে তারেক রহমান। দল এখন আর ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের মেলে ধরতে চায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল কেন্দ্র নয়, বরং তৃণমূল পর্যায় থেকে সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। মে ২০২৬ এর মধ্যেই জেলা পর্যায়ের অধিকাংশ কাউন্সিল সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপরই অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল।

সর্বোপরি, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করা। নিয়মিত কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন দলের ভেতরে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর করবে এবং চেইন অফ কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর এই উদ্যোগ দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পথ প্রশস্ত করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কেবল ক্ষমতার দাপট নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরাই হবে এই নতুন নেতৃত্বের প্রধান পরীক্ষা। কাউন্সিল পরবর্তী এই ‘নতুন বিএনপি’ কতটুকু জনমুখী হতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে দলটির ভবিষ্যৎ সুশাসন ও রাজনৈতিক স্থায়ীত্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

এক্সক্লুসিভ আরও