হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
মে ১৭ ২০২৬, ১৮:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬ জন শিশু হাম বা এর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। একই সময়ে রোগটি শনাক্ত বা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫১৭ জন।
রোববার নিয়মিত প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য প্রকাশ করে, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি নির্দেশ করছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৭ হাজার ৮৪৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে ৭ হাজার ৭৬৭ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬০ জনের কাছাকাছি, যার মধ্যে সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জন শিশুর মৃত্যু যুক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ মৃত্যুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে আরও ২ জন এবং বরিশাল বিভাগে একজন হাম নিশ্চিত হওয়া শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে ২৪৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং আরও ১ হাজার ২৭৪ জনের মধ্যে রোগের তীব্র উপসর্গ দেখা গেছে।
এ পর্যন্ত ৪২ হাজার ৯২ জন শিশু হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে হাজারো শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের বড় হাসপাতালগুলোতে শিশু ওয়ার্ড ও আইসিইউতে শয্যাসংকটও তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের একটি বড় অংশ। সরকারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৭৭ শতাংশই আগে MR (Measles-Rubella) টিকা পায়নি।
এছাড়া মৃত শিশুদের মধ্যে অনেকেই ৯ মাসের কম বয়সী, ফলে তারা টিকাদানের নির্ধারিত বয়সের আগেই সংক্রমিত হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুদের জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। আক্রান্ত শিশুদের পর্যাপ্ত তরল, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ শিশুদের থেকে আলাদা রাখার পাশাপাশি আইসোলেশন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।









































