কালাপাড়ায় ভেজাল শিশুখাদ্য তৈরির কারখানা অভিযান॥ মালিকের কারাদণ্ড

মে ১৫ ২০২৬, ১৭:২৩

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভেজাল শিশু খাদ্য তৈরির কারখানা সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে এ কারখানায় দিনরাত অস্বাস্থ্যকর ও দম বন্ধ করা পরিবেশে তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল। শিশু ও নারী শ্রমিকরা শুধু পানি ও বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করছিল ড্রিংকো নামে শিশু খাদ্য। যার নেই বিএসটিআই অনুমোদন। অথচ বোতলের লেভেলে ঠিকই লেখা বিএস টিআইয়ের নম্বর।

শুক্রবার দুপুরে এ কারখানায় অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ কারখানার মালিক কে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
Ads 11

কলাপাড়া পৌর শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের একটি ভাড়া বাসায় গত পাঁচ মাস ধরে অত্যন্ত গোপনে উৎপাদন করছিলো এ ভেজাল শিশু খাদ্য। খাদ্য প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন কিংবা পৌর প্রশাসন কোন দপ্তরেরই নেই কোন অনুমোদন। তারপরও অদৃশ্য শক্তির জোড়ে এ কারখানায় উৎপাদন হচ্ছিলো ভেজাল ড্রিঙ্কো। যা কলাপাড়ার বিভিন্ন বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছিল প্রকাশ্যেই।

এ কারখানায় নেই মান নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা। বিভিন্ন ধরনের মেশিন সাজানো। আছে পণ্যের মান পরীক্ষার জন্য ল্যাব। ল্যাবে মেশিনও আছে । তবে তাতে রাখার আছে শ্রমিকদের গায়ের জামা কাপড়।

বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা বোতল সাপ্লাইয়ের পানিতে ধুয়ে তাতে বালতিতে রাখা শিশু খাদ্য বোতলজাত করে রাখা আছে। এভাবেই গত কয়েক মাস ধরে তৈরি হচ্ছিল শিশু খাদ্য। আর এতে ব্যবহার হচ্ছিল বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল। যা শিশু খাদ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

কারখানার শ্রমিকরা বলেন, তারা শুধু বোতল ধুয়ে তাতে পানি ভরেন। জুস তৈরি করে তাদের স্যারেরা। তারা জানতেন না এই খাদ্য শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

স্থানীয়রা বলেন, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের অবৈধ একটি কারখানা তৈরি হয়েছে তারা বিষয়টি জানতেন না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অবৈধ শিশু খাদ্য কলাপাড়ায় তৈরি হচ্ছে তারা বিষয়টি জানতেনই না। এ ধরনের শিশু খাদ্য তৈরি ও বিক্রি আইনত অপরাধ।ব্যবসায়ীরা যাতে এ ভেজাল খাবার না বিক্রি হয় এজন্য ব্যবসায়ীদের সচেতন করবেন বলে জানান।

এই অবৈধ কারখানায় অভিযানে গিয়ে হতবাক উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে তারা এভাবে অবৈধ শিশু খাদ্য তৈরি ও বিক্রি করছে তারা বিষয়টি জেনে হতবাক।

কারখানার মালিক অভিযুক্ত মাসুদ সিকদার বলেন, তিনি বিএসটিআইতে আবেদন করেছেন। এছাড়া একজন কেমিস্টও রয়েছে। তবে তিনি এখানে থাকেন না।
Ads 12

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার হামিদ বলেন, এই অবৈধ কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে ও সকল ধরনের মালামাল জব্দ করা হয়েছে। কারখানার মালিক মাসুদ শিকদার কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও একলাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

এক্সক্লুসিভ আরও