নতুন সাজে রূপ নিচ্ছে বরিশাল
মে ১৯ ২০২৬, ০৩:০৫
আরিফ হোসেন ॥ ঐতিহাসিক বেলস পার্ক। দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার এটি বিভাগীয় শহর বরিশালে অবস্থিত। তবে নগরবাসী এটা নগর উদ্যান এবং বিনোদন এলাকা হিসেবে চিনে। এই উদ্যানটি বরিশালের সুন্দর এলাকাগুলির মধ্যে একটি, এখানে খেলার মাঠ, হাঁটার পথ, হেলিপ্যাড, চারপাশে গাছপালা রয়েছে।
শুধু তাই বিনোদন প্রেমিদের কাছে একটা একটি জনপ্রিয় বিনোদন স্থান। এখানে রাজনৈতিক দলের জনসমাবেশ হয়ে থাকে। এবং কি সরকারী দিবসে বড় ধরনের কোন অনুষ্ঠান করতে হলে এই স্থান (বেলস পার্ক) বেছে নেওয়া ছাড়াও আর কোন বিকল্প স্থান নেই বরিশালে।
তবে এই ঐতিহাসিক বেলর্স পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণার অভাবে এবং পার্কটি চারোপাশ ঘিরে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনায় কারনে পুরো চিত্রটাই হারিয়ে যেতে বসিছিলো।
শুধু বেলের্স পার্কই নয় শহরের প্রান কেন্দ্র সদর রোড, বিবির পুকুর পাড় ও চৌমাথা লেকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলে ছিলো বছরের পর বছর ধরে।
যেমন সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেলস পার্ক বাংলাদেশের দক্ষিণের শহর বরিশালে অবস্থিত একটি উদ্যান। বিগত আমলের সরকার পতনের গোটা বরিশাল শহরে ফুটপাত দখলকারীদের হাতে দখল হতে শুরু হয়। ঠিক তখনই বরিশাল সিটি কপোরেশনের সাবেক প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার তিনি নগরের সৌন্দয্য ফিরিয়ে আনার চেষ্ঠা করলেও তিনি ব্যর্থ হন।
এর পর দেশ পরিচালনায় নতুন সরকার গঠন করা হয়। তার ধারাবাহিকতায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিবেসে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনকে।
তবে শিরিন দায়িত্ব পাওয়ার পর নগর উন্নয় নিয়ে ভাবতে থাকেন এবং নগরবাসীর জন্য ভাবতে শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতা হিবেসে এক এক করে নগরের উন্নয়ন কাজ শুরু করেন।
যেমন নতুন রূপে সেজাতে উন্নয়নের হাত দেন নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ধারাবাহিক অভিযানে বেলস পার্ক, বিবির পুকুর পাড় ও চৌমাথা লেকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাত এখন সম্পূর্ণ দখলমুক্ত। এতে নগরবাসী ও বিনোদন কেন্দ্রের দর্শনার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, উচ্ছেদ হওয়া হাজারো ভাসমান ব্যবসায়ীর ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থান নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সংশয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলস পার্কের প্রবেশপথে বসানো হয়েছে সুদৃশ্য রেলিং গেট। একসময় যেখানে হকার ও অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলাই ছিল দায়, সেখানে এখন বইছে স্বস্তির বাতাস। বিবির পুকুর পাড় কিংবা চৌমাথা লেক, সবখানেই এখন উন্মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। বিকেলে পরিবার আর শিশুদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন নগরবাসী। বেলস পার্কে বেড়াতে আসা নগরীর সদর রোডের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আগে এখানে এসে শান্তিতে বসার বা হাঁটার পরিবেশ ছিল না। চারদিকে চটপটি-ফুচকার দোকান আর হকারদের উচ্চ শব্দে কান পাতা যেত না। এখন অনেক পরিচ্ছন্ন লাগছে, বাচ্চাদের নিয়ে নির্ভয়ে হাঁটা যাচ্ছে। আমরা চাই এই পরিবেশ যেন সবসময় বজায় থাকে।’
এদিকে এই স্বস্তির উল্টো পিঠে রয়েছে হাজারো পরিবারের দুশ্চিন্তা। সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, মহানগরী এলাকায় ভাসমান দোকানের সংখ্যা ছিল এক হাজারের বেশি। আকস্মিক এই উচ্ছেদে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বেলস পার্কের সামনে দীর্ঘদিন ধরে খেলনা বিক্রি করা মো. খলিল মিয়া হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘হঠাৎ কইরা আমাগো দোকানগুলা ভাইঙ্গা দিল। এই দোকান দিয়াই আমার পাঁচজনের সংসার চলত, পোলাপানের পড়াশোনার খরচ চলত। এহন আমি কই যামু, কি করুম? আমাগো উচ্ছেদ করার আগে তো একটা ব্যবস্থা কইরা দেয়া উচিত আছিল।’ এ দিকে সচেতন মহলের মতে, পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ অভিযান দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন হবে।
নগর উন্নয়নের জন্য বিগত সরকারের আমতে থেমে থাকা সকল রাস্তা, ড্রেন সংস্কারের চলমান কাজ পূর্নরায় চালু করার পাশাপাশি যেসমস্ত ওয়ার্ডে রাস্তা, ড্রেন, পানি সমস্যা, থেকে থাকা উন্নয়নের প্রকল্প, ময়লাখোলার স্থান পরিবর্তন, প্লানিং’র জটিলটা সমাধান সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে হাত দিয়েছেন বিসিসি’র প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। শুধু তাই নয় নগরবাসী ও সিটি কপোরেশনের কর্মচারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের চলমান সমস্যা সমাধান করে সিটি কপোরেশনকেও নতুন রূপে সাজিয়েছেন।
পাশাপাশি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত সিটি কপোরেশনের ওয়ার্ড গুলো সহ উন্নয়নের প্রয়োজন যে সকল স্থান সেগুলো প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন পরিদর্শন করে উন্নয়ন কাজ শুরু করেছেন ইতিমধ্যে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা কমিটির সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ফুটপাত ও বিনোদনকেন্দ্র দখলমুক্ত করা অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। হঠাৎ এত মানুষ বেকার হয়ে পড়ায় নগরীতে অপরাধ বৃদ্ধির একটা আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই মানবিক কারণে দ্রুত তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান করা জরুরি।’
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, ‘নগরীর বেলস পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে আর কোনোভাবেই দখল হতে দেয়া হবে না।
নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর উপহার দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। তবে আমরা ভাসমান ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনা করছি। তাদের পুনর্বাসনের জন্য ইতিমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।’









































