সেতুর পাড়ে গড়ে উঠেছে নতুন বাজার

অক্টোবর ৩০ ২০২২, ২২:২১

পিরোজপুর প্রতিনিধি ‍॥ পিরোজপুরের সদর ও কাউখালী উপজেলার মধ্যবর্তী কঁচা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে সেতু। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি উদ্বোধনের পর বরিশালের সঙ্গে খুলনার নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এই সেতু ঘিরে সেতুর কাউখালী প্রান্তে গড়ে উঠেছে বেকুটিয়া নতুন বাজার। সেতুতে বেড়াতে যাওয়া মানুষের খাবারের চাহিদা মেটাতে বাজারে মুখরোচক খাবার, মৌসুমি ফলসহ নানা পণ্যের ৮০টি দোকান বসেছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বেচাকেনার মুখর থাকে এই বাজার।

বেকুটিয়া নতুন বাজারের ফল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘বঙ্গমাতা সেতুটি উদ্বোধনের আগে বেকুটিয়া ফেরিঘাটে আমার ফলের দোকান ছিল। সেতুটি উদ্বোধনের পর আমাদের বেচাকেনা কমে যায়। ফেরিঘাটের অর্ধশত ব্যবসায়ী হতাশ হয়ে পড়ি। পরে স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে সেতুর ঢালের পাশে বেকুটিয়া নতুন বাজার করা হয়। নতুন বাজারে আমি ফলের দোকান স্থানান্তর করেছি। সেতুতে বেড়াতে আসা মানুষ নতুন বাজারে খেতে আসেন। আমার বেচাকেনা আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, ১৯৯৪ সালে কঁচা নদীর বেকুটিয়া কুমিরমারা এলাকায় ফেরি চলাচল শুরু হয়। এ পথ দিয়ে বরিশাল, খুলনাসহ ১৮ পথে যানবাহন চলাচল করত। গত ৪ সেপ্টেম্বর কঁচা নদীর ওপর সেতুটি উদ্বোধনের পর ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সেতুর পূর্ব প্রান্তে সড়কের দুই পাশে নতুন বাজার নাম নামে একটি বাজার বসানো হয়। বাজারে ছোট–বড় ৮০টি দোকান আছে। এখানে মিষ্টান্ন, বেকারি পণ্যসহ নানা পদের খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে। রয়েছে ডাব, কলা, জাম্বুরাসহ নানা ফলের দোকান।

স্থানীয় বাসিন্দা ফকরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন বিকেলে পিরোজপুর শহরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ বঙ্গমাতা সেতুতে বেড়াতে আসেন। শুক্রবার ও শনিবার বন্ধের দিন সেতুতে মানুষের অনেক ভিড় হয়। সেতুতে বেড়াতে আসা মানুষ বেকুটিয়া নতুন বাজারে খাওয়াদাওয়া করেন। মূলত সেতুতে বেড়াতে যাওয়া মানুষের চাহিদা মেটাতে নতুন বাজারটি গড়ে উঠেছে।

সেতু নির্মিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা অনেক গুণ বেড়েছে এমন দাবি করলেন মিষ্টি ব্যবসায়ী মো. দুলাল মুন্সী (৫৩)। তিনি বলেন, ‘দেড় দশক আগে বেকুটিয়া ফেরিঘাটের পূর্ব প্রান্তে একটি খাবার হোটেল ছিল। প্রথমে পরোটা, মিষ্টি ও দই বিক্রি করতাম। কঁচা নদীর ওপর বঙ্গমাতা সেতুর উদ্বোধনের পর আমার দইয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। আগে প্রতিদিন গড়ে ২৫ কাপ দই বিক্রি হতো। সেতুটি চালু হওয়ার পর এখন প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ কাপ দই বিক্রি করি। শুধু দই বিক্রি করে গত এক মাসে আয় করেছি ৬০ হাজার টাকা।’

চটপটি বিক্রেতা মো. নাসির (৩৫) বলেন, ‘আগে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতাম। বেকুটিয়া সেতু খুলে দেওয়ার পর নতুন বাজারে ফুচকা–চটপটির দোকান দিয়েছি। এখন প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় হয়।’

কাউখালী উপজেলার শংকরপুর গ্রামের সাবেক শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, পিরোজপুরের মানুষ ছাড়াও অনেক দূর থেকে মানুষ বঙ্গমাতা সেতু এলাকায় বেড়াতে আসেন। বেড়াতে আসা মানুষের কেনাবেচায় মধ্যরাত পর্যন্ত নতুন বাজার মুখর থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

এক্সক্লুসিভ আরও