পবিপ্রবি বরিশাল ক্যাম্পাসের হলে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
আগস্ট ০৯ ২০২৩, ২০:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বরিশাল ক্যাম্পাসের (বাবুগঞ্জ) অন্তর্গত বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হল বেহাল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
পবিপ্রবি বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসে অ্যানিমেল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের দুটি ডিসিপ্লিন ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) এবং অ্যানিমেল হাজবেন্ডারি বিষয়ে পাঠদান করা হয়।
শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা দিতে এই ক্যাম্পাসে দুটি হল বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল রয়েছে।
ছাত্রদের সিট সংকট ও ভোগান্তি নিরসনে হলের সঙ্গে বেশকিছু ভবন যুক্ত করা হয়েছে যা আগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছিল।
এই বিল্ডিংগুলো হলো ১নং বিল্ডিং, ২নং বিল্ডিং এবং ৪নং বিল্ডিং। এর মধ্যে ২নং বিল্ডিংয়ের ভয়াবহ অবস্থার বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে।সেখানে থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিবেশ নেই বললেই চলে। ভবনের ২য় তলায় দেখা যায় ওপরের ছাদ ফেটে পানি পড়ার দৃশ্য।
এই অবস্থা মোকাবিলা করতে এক শিক্ষার্থীকে মশারির ওপর পলিথিনের সেফটি দিতে দেখা যায়, যেটির ছবি নিয়ে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
ভবনটির বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। হাঁটা চলার জায়গা সংকীর্ণ। সরেজমিনে দেখা যায়, অনুষদের ডিন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও শিক্ষার্থীদের নতুন কোনো সিটের ব্যাবস্থা করা হয়নি।
বরং এক দিকে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অপরদিকে শিক্ষার্থীদের নতুন সিটের ব্যবস্থা না করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর চরম অমানবিক বলেই মনে করছে ভবনের শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশের যে কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ হল সুবিধা প্রদান করে তার মাঝে পবিপ্রবি অন্যতম। তবে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হলের এই বেহাল দশা রেখেই কী তবে পবিপ্রবি হল সুবিধায় স্বয়ংসম্পূর্ণ? প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনুষদের ডরমেটরি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ২নং বিল্ডিংকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও সিটের ব্যবস্থা করা হয়নি।
ডরমেটরিতে ২নং বিল্ডিংয়ের সব শিক্ষার্থীকে স্থানান্তর করার অনুরোধ রইল কর্তৃপক্ষের কাছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ২০১৪-১৫ বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ সজীব বলেন, ‘বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসের ২নং ভবনটি বসবাসের একদমই অনুপযুক্ত।
ছাদের পানি পড়ার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়েও একাধিক সমস্যা আছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. এনামুল হক কায়েস বলেন, ‘২নং ভবন বেহাল হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ বসবাসের অনুপযোগী হিসেবে রিপোর্ট দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তাই শিক্ষার্থীদের সে স্থান ত্যগের জন্য বলা হয়েছে।’
পরিত্যক্ত ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে আবাসন ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়, ৩০০ সিটের জায়াগায় ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে থাকতে হয়।
বর্তমানে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে নতুন হল নির্মাণে কথা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, পবিপ্রবি বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসের আবাসন ব্যবস্থার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হলের ভোগান্তিতে শীর্ষে রয়েছে।
হলের রাস্তাগুলো পানিতে হাঁটুজল পর্যন্ত উঠে যায় বৃষ্টির সময়। প্রতি মঙ্গলবার অনলাইন ক্লাস থাকলেও হলের অধিকাংশ ভবনে পর্যাপ্ত ওয়াইফাই সুবিধা দিতে পারেনি হল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থীদের রিডিং রুম নেই, কোনো ইনডোর গেমিং রুম নেই, প্রায় প্রতিটি রুমেই ফ্যান লাইট অকেজো, ডাইনিংয়ের খাবারের অবস্থাও খারাপ। ওয়াশরুমের সমস্যাসহ নানা সমস্যায় ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।








































