বরিশালজুড়ে যেন চলছে খাল দখলের মহোৎসব ॥ খালে আটকে বহুতল ভবন নির্মাণ
মার্চ ৩১ ২০২৬, ১৯:৫৩
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বরিশাল জেলাজুড়ে যেন মহোৎসব চলছে সরকারী জমি থেকে শুরু করে সরকারী খাল দখল । কার জমি কে দখল করছে যেন কোনো নিয়ম-নীতি নেই। এসব কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনো সাড়া মিলছে না।
তারই ধারাবাহিকতা হিসেবেথেমে নেই বরিশালের উজিরপুর উপজেলাতেও।
সরকারের খাল উদ্ধার ও পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদারের মধ্যেই প্রকাশ্যে সরকারী খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার শোলক ইউনিয়নের সেনেরহাট এলাকায় শতবর্ষী ধামুরা–বামরাইল খালের মাঝখানে স্থাপনা নির্মাণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামুরা–শানুহার মহাসড়ক সংলগ্ন ধামুরা–বামরাইল খালের একটি অংশ ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন প্রবাসী সরোয়ার বেপারী। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শত শত বছর ধরে এই খালটি শোলক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষিজমিতে পানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খালের মাঝখানে স্থাপনা নির্মাণ হলে শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়বে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বৈধভাবে জমি ক্রয় করেই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার স্ত্রী বলেন, ‘আমরা মোটা অংকের টাকা দিয়ে জমি কিনেছি, তাই ভবন নির্মাণ করছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাপিল বিশ্বাস বলেন, ‘প্রবহমান খালের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। সরকার বর্তমানে খাল সংরক্ষণ ও পুনঃখননে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা জানান, ‘বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








































