বরিশালে স্বনির্ভর খাল পরিদর্শনে ডিসি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ
মার্চ ১৪ ২০২৬, ২১:৫৯
বরিশাল: বরিশাল সদর উপজেলার চর-কাউয়া ইউনিয়নের স্বনির্ভর খাল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন। পরিদর্শনকালে তিনি বিলের পোল সংলগ্ন এলাকায় খালের মধ্যে অবৈধ ভবন নির্মাণ দেখতে পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং দ্রুত তা অপসারণের জন্য উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে নাপিত বাড়ি সংলগ্ন খালের শেষ প্রান্তে প্রায় ৫০ ফুট জায়গা ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় এক হাজার একর কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকতে দেখে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় কৃষকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ, বরিশাল সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম, প্রকৌশলী আতায়ে রাব্বি, বিশ্বজিৎ এবং বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই এলাকায় জমি ক্রয় করে খালের পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেন। এছাড়া আরেক ব্যক্তি খালের মধ্যে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করায় ধীরে ধীরে খালটি ভরাট হয়ে যায়। এর ফলে এলাকার প্রায় আড়াই হাজার একর ফসলি জমি দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় কৃষক পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়ে।
স্থানীয় কৃষক জাহাঙ্গীর জানান, স্বনির্ভর খালের প্রবেশমুখে অবৈধ ভবন নির্মাণ এবং শেষ প্রান্তে ভরাটের কারণে প্রায় এক হাজার একর জমি অনাবাদি হয়ে গেছে। এ সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক সরেজমিন পরিদর্শনে এসে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন কৃষকদের দুর্দশা বিবেচনায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত স্বনির্ভর খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেন। পরে জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন খাল পুনঃখনন ও একটি কালভার্ট নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের সাড়ে তিন কিলোমিটার খনন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি কালভার্ট নির্মাণের শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, অবশিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হলে এই বিশাল কৃষিজমি আবারও ফসলের সবুজে ভরে উঠবে এবং তাদের জীবনে স্বচ্ছলতা ফিরবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগেই স্বনির্ভর খালটি খনন করা হয়েছিল। খনন কাজ সম্পন্ন হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।
ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, সচিব এবং আইএমইডির পরিচালকসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা দফায় দফায় খননকাজ পরিদর্শন করেছেন।









































