নির্মাণ কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায়
ঠিকাদারের অভিযোগে ববি’র ছাত্রদলের তিন নেতা অভিযুক্ত
মার্চ ০৬ ২০২৬, ০০:৫৫
নূর ইসলাম নিয়ন, ববি প্রতিনিধি ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলমান নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঠিকাদারপক্ষের বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঠিকাদারের প্রতিনিধি এবিএম আওলাদ হোসেন ওরফে মনু।
অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত এবং ছাত্রদল নেতা আজমাইন সাকিব।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাসে চলমান সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২ মার্চ কাজ চলাকালে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল নেতা আজমাইন সাকিব নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ জানান। এ সময় ঠিকাদারপক্ষের প্রতিনিধি মনুর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মনু নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে সাকিবের ছবি তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগপত্রে মনু উল্লেখ করেন, ১ মার্চ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা দলবল নিয়ে এসে কাজের জন্য টাকা (চাঁদা) দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে গালিগালাজ করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন মনু।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা আজমাইন সাকিব বলেন, তিনি কেবল নিম্নমানের নির্মাণকাজের প্রতিবাদ করেছেন এবং মানসম্মত কাজ নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন। কোনো ধরনের হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার তার ছবি তোলেন এবং নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। পরে বিষয়টি তিনি রেজা শরীফকে জানান।
ঠিকাদারপক্ষের প্রতিনিধি মনু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময় আজমাইন সাকিব এসে কাজ বন্ধ করার কথা বলেন এবং ঢালাই বন্ধ করে দেন। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময় রড, বালি ও পাথর পরীক্ষার মাধ্যমে কাজ করা হয় এবং তিনি সেই নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। তার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা রেজা শরীফের নির্দেশনায় এসব ঘটনা ঘটেছে।
তবে চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা নথি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার কাছে কোনো লিখিত প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, যারা চাঁদা চাইছিল তাদের শনাক্ত করার জন্য তিনি ছবি তুলেছিলেন, কিন্তু পরে ছাত্রদল নেতারা তার কাছ থেকে ফোন নিয়ে ছবিটি মুছে দেন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজা শরীফ বলেন, ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার দাবি, অনিয়মের বিষয়টি সামনে আনার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতিও উপস্থিত ছিলেন। সাকিবের পক্ষ থেকে দুইটি দাবি তোলা হয়েছিল—প্রথমত নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করে করা কাজ ভেঙে পুনরায় মানসম্মত সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত অভিযোগ থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আর কোনো কাজ না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না করে বারবার সময় বাড়ানোর ঘটনাও রয়েছে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর সহায়তায় একই ঠিকাদার বারবার কাজ পেয়ে থাকেন এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলম এবং প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ঠিকাদারের প্রতিনিধি তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০–১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









































