আমতলীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পলেস্তার ধস, আতঙ্কে রোগীরা
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর মূল ভবনের একটি বীমের পলেস্তারা ধসে পড়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (১ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটলে অর্ধশতাধিক রোগী হাসপাতাল ত্যাগ করে বাইরে রাত যাপন করেন।
জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে স্বাস্থ্য বিভাগ ভবনটি নির্মাণ করে। প্রায় ৩৭ বছর ধরে এই ভবনেই চিকিৎসাসহ সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শুক্রবারের ভূমিকম্পে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি বীমের অংশ ভেঙে পলেস্তারা নিচে পড়ে, যা এক রোগীর গায়ে লাগে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা খেকুয়ানী গ্রামের তানিয়া আক্তার বলেন, “বীম ধসে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সবাই বেড ছেড়ে বাইরে চলে যায়। আমিও আমার সন্তানকে নিয়ে বাইরে রাত কাটিয়েছি।
ছোট নীলগঞ্জ গ্রামের রোগী মোর্শ্বেদা জানান, “রাতে ভবন থেকে শব্দ শুনে দ্রুত নিচে নেমে যাই। পরে দেখি অন্যরাও বের হয়ে গেছে।” রোগীর স্বজন মো. শাহীন বলেন, “আতঙ্কে সব রোগী বেড ছেড়ে বাইরে চলে যান। কেউ আর সেদিন রাতে ভেতরে ফেরেননি।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ওয়ার্ড ইনচার্জ মোসাঃ মোর্শ্বেদা বেগম জানান, ভবনের ফাটা অংশ ভেঙে পড়ে। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার বলেন, ভূমিকম্পে পুরাতন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়-কে জানানো হয়েছে।
বরগুনা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদন হলে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।