আজ বরিশালে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা
আজ তারেক রহমানকে সরাসরি দেখবেন দক্ষিাঞ্চলবাসী
ফেব্রুয়ারি ০৪ ২০২৬, ০০:৪৭
আরিফ হোসেন॥ প্রায় দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ ৪ ফেব্রুয়ারী আসছেন বরিশালে। এর আগে নানা কারনে দফায় দফায় তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে আজ ৪ ফেব্রুয়ারি তার সফর এবং বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিবেন তিনি।
ইতিমধ্যে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকল প্রস্তুতি শেষের দিকে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত বরিশালবাসী তাকে এক নজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। দলের নেতা-কর্মীরা আশা করছেন, চেয়ারম্যানের আগমনে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনসভায় তার বক্তব্য ২১টি আসনে নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য বিজয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তার সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বেলস পার্কে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শেষের দিকে। দফায় দফায় চলছে বৈঠক, রাজপথ দখল করছেন নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিলে অংশ নিয়ে।
প্রায় দুই দশক পর আবারও তারেক রহমানের আগমনী বার্তা বরিশালবাসীর মধ্যে আশার ঢেউ সৃষ্টি করেছে। বরিশাল-১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের নেতা দক্ষিণ বাংলা সফরে আসছেন। বিএনপি ও ধানের শীষের নেতাকর্মীদের মধ্যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। তার আগমনে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত উচ্ছসিত।’
৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বান্দ রোডের বেলস পার্কে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। পুরো দক্ষিণাঞ্চলে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে পুরো বরিশালবাসী উচ্ছসিত। আমরা তাকে প্রাণভরে দেখব।’
এছাড়া বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘আমরা জেলায় জেলায় আমাদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। ৪ তারিখ সকাল ১১টার মধ্যে জনসভা শুরু হবে। চারদিকে মাইকিং চলছে।’ তারেক রহমানের জনসভাকে সর্বাধিক মানুষ সমাগমে রূপান্তর করতে বরিশালের ছয়টি জেলায় নেতারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের ৮টি ইউনিট সমানভাবে কাজ করছে। আশা করি লক্ষাধিক নেতাকর্মীর সমাগম হবে।’
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘জনসভার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হবে, জায়গা দিতে পারা নিয়ে চিন্তিত।’ বরিশাল সুজনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘জনসভায় তারেক রহমানের বার্তার মধ্য দিয়ে ২১টি আসনে নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত হতে পারে।’ নিরাপত্তা জোরদার করার কথাও জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।
এর আগে ২০০৩ সালের ২৩ এপ্রিল সর্বশেষ বরিশালে এসেছিলেন তারেক রহমান এবং বরিশাল জিলা স্কুলের মাঠে সভা করেছিলেন। অন্যদিকে তারেক রহমানকে চোখের এক পলক দেখতে ভোলো থেকে বরিশালে সাইকেল চালিয়ে আব্বাস মিয়াজি নামে এক ভক্ত।
শুধু তাই নয় বরিশাল আগমনকে ঘিরে উপকূলীয় জেলাগুলোতে বইছে উৎসবের আমেজ। এই আমেজকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ভোলার লালমোহনের একনিষ্ঠ কর্মী আব্বাস মিয়াজি। নেতার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে আস্ত একটি ‘ধানের পোশাক’ শরীরে জড়িয়ে সাইকেল চালিয়ে ভোলা থেকে বরিশালে পৌঁছেছেন তিনি।
প্রচারণার অভিনব ভঙ্গি ॥ পেশায় সাধারণ মানুষ হলেও রাজনীতির প্রতি আব্বাস মিয়াজির টান শৈশবের। তারেক রহমানের সমাবেশকে সফল করতে তিনি নিজের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়েছেন। প্লাস্টিকের ধানের শীষ এবং কৃত্রিম ধান দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ পোশাক তৈরি করেছেন তিনি, যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় একটি জীবন্ত ধানের আটি হেঁটে চলেছে। ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত দীর্ঘ পথ তিনি সাইকেল চালিয়ে অতিক্রম করেন।
পথে পথে সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছেন তিনি। সাইকেলে ছিল দলীয় পতাকা এবং হাতে ছিল প্রচারপত্র। পথে বিরতি নেওয়ার সময় তিনি পথচারীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং দলীয় লিফলেট বিতরণ করেন। আব্বাস মিয়াজি বলেন, তারেক রহমান আমাদের স্বপ্নের নেতা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি আমাদের মাঝে আসছেন, এটা আমাদের জন্য ঈদের মতো আনন্দ।
এই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমি ধানের পোশাক পরে সাইকেল নিয়ে বের হয়েছি। কষ্ট হলেও নেতার জন্য এইটুকু করতে পেরে আমি গর্বিত। বরিশালে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। অনেক কর্মীই তার এই নিবেদিতপ্রাণ প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেছেন। তাদের মতে, আব্বাস মিয়াজির মতো তৃণমূলের কর্মীদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই দলের আসল শক্তি।
সমাবেশকে ঘিরে বরিশালে এখন টানটান উত্তেজনা এবং সাজ সাজ রব। আব্বাস মিয়াজির এই সাইকেল সফর সেই উন্মাদনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলবাসী তারেক রহমানের দিতে তাকিয়ে রয়েছে। তিনি নির্বাচনী সবাবেশে দক্ষিনাঞ্চলবাসীর জন্য কি উপহার! নির্বাচনের বিজয়ী হতে কি করবেন এই অঞ্চলের জন্য। অন্যদিকে নেতাকর্মীরা তাকিয়ে রয়েছে তাদের উদ্দ্যেশে কি ঘোষনা দিবেন।









































