ইমরান হোসেন : বরিশাল সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নানা অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে আসা সেবাগ্রহীতারা জানান, এখানে কর্মচারীরা ছুটি না নিয়ে ঠিকমতো ডিউটি করে না। প্রতিদিন ভ্যাকসিন দেয়ার নিয়ম থাকলেও সপ্তাহে দুই দিন, কোন মাসে ২/১ দিন ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
আবার এমনও হয়েছে তারা (এই অফিসের কর্মচারীরা) বলে দেয় “ভ্যাকসিন আসছে কি’না” পরে এসে খোঁজ নিতে। সেবা প্রত্যাশীরা আরো জানান, এখানে ভ্যাকসিন সহ অন্যান্ন বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসলে বেশিরভাগ অফিস স্টাফরাই তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেবা প্রত্যাশি জানিয়েছেন, সরকারি সব মেডিসিন তাদের কাছে থাকলেও তারা মাসের মধ্যে ২০/২৫ দিন’ই বলে তাদের ঔষধ সাপ্লাই নাই।
এর পিছনে এখানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্য আছে কি’না ? এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি। এদিকে গত সোমবার (০৫ জানুয়ারী) মো: রনি নামের এক ব্যাক্তি তার মুরগির জন্য ভ্যাকসিন নিতে গেলে তার সাথে অফিসের একজন কর্মচারী খারাপ আচরন করে। পরে তাকে ভ্যাকসিন ছাড়াই খালি হাতেই ফিরে যেতে হয় বলে জানান ভুক্তভোগী মো: রনি (বক্তব্য সংরক্ষিত)।
অপর একজন ভুক্তভোগী তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি না থাকায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের এই অবক্ষয় চলছে। এইরকমের চলতে থাকলে এই দপ্তরের কার্যক্রম দিনদিন আরো প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা কামরুন্নাহার কলি জানান, হাসপাতালের কিছু ষ্টাফদের খারাপ বিষয়টি এর আগেও আমার কানে এসেছে। আমি বিষয়টি দেখবো।
ভ্যাকসিন না দেওয়া আর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস না করার বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। এদিকে বরিশাল জেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাঝেমধ্যে ভ্যাকসিনের সংকট হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, টানা ২/৩ সপ্তাহ এই সংকট থাকবে।
আর এখানে আসা সেবা প্রত্যাশীরা হয়রানীর শিকার হবে, এটাও মানার মতো নয়। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখার কথা ও জানান তিনি। এদিকে বরিশাল বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ দপ্তরের পরিচালক (চ: দা:) মাহফুজুল হক বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো আপনার কাছ থেকে শুনলাম। আমি বিষয়টি দেখবো।