মুলাদী-কাজিরহাট সংযোগস্থলে জনদুর্ভোগ: খাসেরহাটে একটি সেতুর জন্য হাহাকার
জানুয়ারি ০৩ ২০২৬, ১২:৪৮
মোঃ জুনায়েত হোসেন,কাজিরহাট থানা প্রতিনিধি: বরিশাল জেলার মুলাদী ও কাজিরহাট থানার সীমান্তবর্তী জনপদ খাসেরহাট। এই দুই জনপদকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে উত্তাল নদী। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং চরম ভোগান্তি সহ্য করে এই নদীর খেয়াঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, খেয়া পারাপারের অব্যবস্থাপনা আর ঘাটের ইজারাদারের অবহেলায় তাদের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
সময় ও অর্থের অপচয়,, খাসেরহাট খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। নদীর ওপারের মূল আকর্ষণ দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ কৃষিপণ্যের বাজার খাসেরহাট বাজার। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শুক্রবার এখানে বিশাল হাট বসে।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, ঘাটে একবার পার হতে ১০ টাকা এবং আসা-যাওয়ায় মোট ২০ টাকা গুণতে হয়। কিন্তু টাকার চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়। ট্রলার পূর্ণ হওয়ার পরেও ইজারাদার বা চালকরা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে ট্রলার ছাড়ে। এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে অনেক সময় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত ঘাটে বসে থাকতে হয়।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত ,,এই খেয়াঘাটটি কেবল কেনাবেচার মাধ্যম নয়, এটি শত শত ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার একমাত্র পথ। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না এই খেয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে।
সবচেয়ে করুণ চিত্র ফুটে ওঠে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে। স্থানীয় এক বাসিন্দা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন: ”আমাদের অফিস-আদালত, বাজার বা ডাক্তার—সবকিছুর জন্য নদী পার হতে হয়। কিন্তু হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে যদি ট্রলার ওপাড়ে থাকে, তবে আমাদের আর রক্ষা নেই। সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিতে না পেরে রোগী মারা যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটার আশঙ্কা থাকে।”
একটি সেতুর প্রাণের দাবি, স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি, মুলাদী ও কাজিরহাটের সংযোগস্থলে এই খাসেরহাট পয়েন্টে একটি সেতু নির্মাণ করা হোক। গ্রামবাসীদের মতে, এখানে একটি ছোট সেতু নির্মিত হলে।
সহজ ও দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে।শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে পারবে।কৃষিপণ্য পরিবহনে খরচ ও সময় কমবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনবে।
গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে যেন দ্রুত এই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারা বিশ্বাস করেন, একটি সেতুই বদলে দিতে পারে এই অবহেলিত জনপদের হাজারো মানুষের ভাগ্য।








































