প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি, ভিডিও ভাইরাল
জানুয়ারি ০৮ ২০২৪, ১৮:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে অনবরত সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ভরছেন দুই ব্যক্তি। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি গতকাল রোববার নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি) আসনের নির্বাচন চলাকালে একটি ভোটকেন্দ্রের বলে জানা গেছে।
রোববার বিকেল থেকে ৭ মিনিটের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুমকী উপজেলার ২২ নম্বর জামলা গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সামনেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ভরতে দেখা যায়।
বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হাবিবুর রহমান। সিল মারায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন—মো. জসীম সিকদার ও মো. আবুল বাশার ডাক্তার। জসীম জাতীয় পার্টির সমর্থক, তবে তিনি মশাল প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে ওই কেন্দ্রে ছিলেন। আর আবুল বাশার ডাক্তার জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও এ আসনে জোটের প্রার্থী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের লাঙ্গল প্রতীকের ওই কেন্দ্রের এজেন্ট ছিলেন।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, দুমকী উপজেলার ২২ নম্বর জামলা গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের একটি কক্ষে চেয়ারে বসে আছেন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হাবিবুর রহমান। আর তাঁর সামনেই মো. জসীম সিকদার (কালো ব্লেজার পরা) ব্যালট বাক্স নিয়ে গোপন কক্ষে চলে যান এবং সেখানে বসে অনবরত ব্যালট পেপারে টিপ সহ দিয়ে আবার চলে এসে ওই পেপারেই সিল মারতে থাকেন। এ ছাড়া তার সামনেই আবুল বাশার (পাঞ্জাবি পরা) তিনি ব্যালট পেপার ভাঁজ করে বাক্সে ভরছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবুল বাশার ডাক্তার বলেন, ‘আমি লাঙ্গলের এজেন্ট ছিলাম কিন্তু জসিম মশালের ছিলেন। আমার কাছে হেল্প চাইছে, পরে আমি গিয়া কয়েকটা পেপার ভাঁজ করে বাক্সে ভরছি। পরে যখন দেখছি এটা বেআইনি, তখন আমি চলে আসছি।’
তবে অভিযুক্ত জসিম শিকদার বলেন, ‘আমি শুধু আমার ভোটটা দিয়েছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিডিও এডিট করে কীভাবে বসাইছে জানি না।’ ভোট কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি তাদের চিনি না, তাদের বাধা দিছিলাম এবং প্রিসাইডিং অফিসারকেও জানাই ছিলাম। কিন্তু তার কাছে বলেই ঢুকেছে। দুজনই লাঙ্গলের লোক কিন্তু একটু টেকনিক করে একজন লাঙ্গলের এবং অন্যজনের ক্যান্ডিডেট হয়ে এজেন্ট ছিল। বোঝেনই তো।’
কতটি ব্যালট পেপারে সিল মেরেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক বান্ডিলের কম না বেশিও হতে পারে।’ এ ব্যাপারে ওই ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আ. ছত্তার বলেন, ‘আমি শুনেছি এ রকম ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু আমি তখন নামাজে গিয়েছিলাম।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না এবং আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ ও দেয়নি।’








































