পটুয়াখালীতে দুর্ভোগের আরেক নাম বাস টার্মিনাল!
অক্টোবর ১০ ২০২৩, ১৮:৩৬
ডেস্ক প্রতিবেদক ॥ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় জেলার এই ব্যস্ততম বাস টার্মিনাল। প্রতিদিন টার্মিনাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটসহ বরিশাল, বরগুনা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীরা যাতায়াত করেন।
সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে টার্মিনাল এলাকায় পানি জমে কর্দমাক্তসহ খানা-খন্দ সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রী চালকদের। এদিকে দ্রুতই প্রকল্পের মাধ্যমে বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন পটুয়াখালীর পৌর মেয়র মহিউদ্দীন আহম্মেদ। জানা যায়, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সড়কপথে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। পটুয়াখালী শহরের প্রবেশমুখ থেকে একটু দক্ষিণে মহাসড়কের পাশে পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল।
জেলার অভ্যন্তরীণ ৭টি রুটের ১৫০টি যাত্রী পরিবহনের বাসসহ বরিশাল-বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন আন্তঃজেলায় দেড় শতাধিক বাসে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন এই টার্মিনাল থেকে। অথচ সামান্য বৃষ্টি হলেই টার্মিনালের ভেতরে ও আশপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো বাস টার্মিনাল। এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কয়েক দশক আগে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে প্রায় আড়াই একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পরই বাস টার্মিনালটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা পোর্টসহ ব্যাপক উন্নয়নের সঙ্গে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে সড়কপথে ব্যাপক হারে যানবাহন চলাচল বেড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, অল্প বৃষ্টিতেই বাস টার্মিনালের ভেতরে পানি জমে রয়েছে। মহাসড়কের পাশে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাসগুলো জমে থাকা কাদাপানির মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। যাত্রীরা কষ্ট করে ওঠানামা করছেন। ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা মাহাবুব হোসেন নামে এক পর্যটক বলেন, ‘লঞ্চে সকালে পটুয়াখালী পৌঁছে কুয়াকাটা যাওয়ার উদ্দেশ্যে পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল আসি। জলাবদ্ধতার কারণে কাদাপানি মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়েছে।
শহরের ভেতর দিয়ে আসার সময় রাস্তাঘাট সুন্দর দেখলেও বাস টার্মিনালে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।’ বরিশালের যাত্রী রাকিব হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কাউন্টারে যাওয়া যায় না। বাসে উঠতে হয় পা ভিজিয়ে ও কাদামাটি মেখে। এভাবে যাতায়াত করা কষ্টকর। কলাপাড়া বাসযাত্রী নাঈম হোসেন বলেন, টার্মিনাল ভবনের সব শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী।
যাত্রীদের বসার স্থানও ভালো নয়। পটুয়াখালী-বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে চলাচলকারী বাস রুদ্র-তূর্য পরিবহনের চালক মো. শহীদ জানান, শুধু যাত্রীরাই নন, পানি জমে থাকলে বাসচালক ও শ্রমিকরাও দুর্ভোগে পড়েন। যাত্রীদের ওঠানামার জন্য ভালো জায়গা পাওয়া যায় না। মহাসড়কের পাশে রাখলে যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় খানা-খন্দে আটকে পড়ে বাস, তখন লোকজন নিয়ে টেনে গাড়ি তুলতে হয়। পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, প্রতিবছর ২০ লাখ টাকা টোল আদায় করে পৌরসভা। কিন্তু টার্মিনালের কোনো উন্নয়ন হয় না।
একটু ভারি বৃষ্টি হলেই শৌচাগারগুলো পানিতে ডুবে যায়। এতে শৌচাগারের ময়লা উপচে টার্মিনালের ভেতরে চলে আসে। টার্মিনালটি সংস্কারের দাবি সভাপতির। তা না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে না। পটুয়াখালীর পৌর মেয়র মহিউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা বাস টার্মিনালের খানা-খন্দগুলো মেরামতের জন্য কাজ করি। তবে এবার সেটা করা হয়নি। কারণ, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হবে।’ ২০০৩ সালে ২ একর জমির ওপর ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) এই বাস টার্মিনাল নির্মাণ করে। পরে তারা এটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে। সেই থেকে পৌরসভা এটি রক্ষণাবেক্ষণ করছে।








































