ভারতে আদিবাসীর মুখে মূত্রত্যাগ, রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে
জুলাই ০৬ ২০২৩, ১২:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ভারতের মধ্যপ্রদেশে একজন আদিবাসী ব্যক্তির মুখে ও মাথায় মূত্রত্যাগ করার ঘটনায় দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। সেইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে চার্জ আনা হয়েছে। খবর বিবিসির।
ওই ঘটনার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি সিগারেট খেতে খেতে মাটিতে বসে থাকা একজন আদিবাসী ব্যক্তির গায়ে ভাবলেশহীন ভঙ্গীতে প্রস্রাব করে যাচ্ছেন। ওই ব্যক্তিকে পরভেশ শুক্লা নামে চিহ্নিত করা হয়।
দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস দাবি করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শাসক দল বিজেপির একজন নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তবে বিজেপি এই দাবি অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, দলের সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনো সম্পর্কই নেই।
এই ঘটনা নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের পর মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার অবশেষে গতকাল বুধবার ভোররাতের একটু আগে ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। মধ্যপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারি এড়াতে গত বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে পরভেশ শুক্লা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। কিন্তু এদিন রাত ২ টার দিকে তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়ে যান।
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখন পুলিশ জেরা করছে। তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন ছাড়াও এসসি/এসটি অ্যাক্ট (তফসিলি আইন) ও ইন্ডিয়ান পিনাল কোডের অন্যান্য ধারাতেও চার্জ আনা হয়েছে।
তবে বিরোধী দল কংগ্রেস বলছে, মধ্যপ্রদেশে বিজেপি সরকারের আমলে আদিবাসীদের বিরুদ্ধে ‘হিংসা ও নির্যাতনে’র যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এই ঘটনা তারই একটি দৃষ্টান্ত।
পুরো ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে ভিক্টিম ওই আদিবাসী ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে মিথ্যা হলফনামাও তৈরি করা হয়েছিল বলে কংগ্রেস অভিযোগ করেছে। হলফনামায় ভাইরাল ভিডিওটিকে ‘ফেক’ বা সাজানো বলে দাবি করা হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়া মধ্যপ্রদেশের একটি ভিডিও নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় – যাতে ওই মূত্রত্যাগের ঘটনাটি ধরে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত পরভেশ শুক্লা ধূমপান করতে করতে প্যান্টের জিপার খুলে রাস্তার পাশে বসে থাকা একজন ব্যক্তির মুখে প্রস্রাব করছেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই রাজ্যে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আব্বাস হাফিজ টুইট করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি রেওয়া আসনের বিজেপি এমএলএ সিধি কেদারনাথ শুক্লার একজন প্রতিনিধি বলে তিনি জানতে পেরেছেন।








































