টাইটানিক-টাইটান ট্র্যাজেডি একই সূত্রে গাঁথা

জুন ২৩ ২০২৩, ১৮:২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: গত রোববার (১৮ জুন) দুইজন ক্রু এবং তিনজন সাধারণ যাত্রীসহ আটলান্টিক মহাসাগরে ডুব দেয় ওশেনগেটের ডুবোযান টাইটান।

উদ্দেশ্য ছিল সাগরের ১২ হাজার ফুট নিচে পড়ে থাকা জাহাজ টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখা। কিন্তু এই যাত্রা শুরুর মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পরই ডুবোযানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) ডুবোযানটির পরিচালনাকারী সংস্থা ওশেনগেট এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘ডুবোযান টাইটানের পাঁচ অভিযাত্রীর কেউই আর বেঁচে নেই।

এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে। আমরা এই মৃত্যুতে শোক জানাচ্ছি।’

তবে, টাইটানের যাত্রীরা অভিযাত্রা শুরুর আগে যেকোনো বিপর্যয়ে সম্ভাব্য ‘মৃত্যুর দায় মওকুফে’ সই করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের পাশেই স্থান হলো ডুবোযান টাইটানের।

১৯১২ সালে আটলান্টিকের অতলে তলিয়ে যায় সেই সময়কার সবচেয়ে বিলাসবহুল জাহাজ টাইটানিকের সঙ্গে মিল টাইটানের শুধু নামের মিল নয়, দুর্ঘটনার মিলও খোঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। টাইটানিকের অন্যতম যাত্রী ছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি ইডিটর স্ট্রস ও ইডা স্ট্রস।

ইডিটর স্ট্রস ছিলেন মার্কিন সাবেক কংগ্রেসম্যান ও শীর্ষ ধনী। এই দম্পতির উত্তরসূরি হচ্ছেন ওয়েন্ডি রাশ।

আর ওয়েন্ডি রাশের স্বামী হচ্ছেন টাইটানের পাইলট ও ওশানগেটের সিইও স্টকটোন রাশ। ভয়াবহ বিস্ফোরণে আটলান্টিকের গভীরে পাঁচ আরোহীসহ মৃত্যু হয় স্টকটোন রাশের।

এই আলোচিত দম্পতির কথা টাইটানিক সিনেমায় তুলে ধরেছিলেন বিখ্যাত পরিচালক জেমস ক্যামেরন। নারীদের সঙ্গে তুলে নেয়া হয় ইডা স্ট্রসকে।

আর পুরুষদের নৌকায় তোলা হয় ইডিটর স্ট্রসকে। তবে তা মানতে চাননি সাবেক এই কংগ্রেসম্যান।

তিনি বলেন সব নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেয়ার পর তিনি উদ্ধার জাহাজে উঠবেন। কিন্তু স্বামীকে রেখে যেতে চাননি ইডা স্ট্রস। তিনি বলেন, যার সঙ্গে ৪০ বছর কাটিয়েছি তাকে ছেড়ে তিনি যাবেন না। এর পর দুজনই নেমে পড়েন উদ্ধারকারী যান থেকে।

খুলে ফেলেন দুজনের লাইফ জ্যাকেট। পরে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে একসঙ্গে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন স্ট্রস দম্পতি। সেই ঘটনা মিথ্যা ছিল না।

সেজন্যই সিনেমার নায়ক-নায়িকা জ্যাক ও রোজের মতো আজও দর্শকদের মণিকোঠায় রয়ে গিয়েছেন স্ট্রস দম্পতি। টাইটানিকের সঙ্গেই হিমশীতল আটলান্টিক মহাসাগরের পানিতে ডুবে অমরত্ব বরণ করেন তারা।

এবার সেই একই পরিণতির শিকার হলেন তাদের প্রপৌত্রী ওয়েন্ডি রাশের স্বামী স্টকটোন রাশ। নিখোঁজ ডুবোযান টাইটানের পাইলট ও মালিক প্রতিষ্ঠান ওশানগেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন স্টকটোন রাশ।

আর এর মধ্য দিয়েই যেন টাইটানিকের সঙ্গে মিলে গেল টাইটানের পরিণতির। যাত্রী নিয়ে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরে যান স্টকটোন।

এর আগেও টাইটানিক দেখতে গিয়ে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু, এবার আর ফিরতে পারেননি। ভয়াবহ বিস্ফোরণে আটলান্টিকের গভীরে মৃত্যু হয় স্টকটোন রাশের।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলা হয়, স্ট্রস দম্পতির একমাত্র মেয়ে মিনি। তিনি ১৯০৫ সালে ডা. রিচার্ড উইলকে বিয়ে করেছিলেন।

তাদের পুত্র জুনিয়র উইল নিউ ইয়র্কে বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর মেসির প্রেসিডেন্ট হন। তার পুত্র তৃতীয় রিচার্ড উইল পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। তারই মেয়ে হলেন ওয়েন্ডি রাশ। তিনি ১৯৮৬ সালে স্টকটোন রাশকে বিয়ে করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও