পায়রায় চিংড়ির রেণু ধরতে গিয়ে অন্য পোনা নিধন
জুন ১২ ২০২৩, ১০:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরগুনার আমতলীর পায়রা নদীতে মশারি, নেটের খুচনি জাল দিয়ে গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে।
আমতলীসহ দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় প্রতিদিন এই কাজ করছেন কিছু মৎস্য শিকারি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারিও দেখা যাচ্ছে না সেখানে।
জানা গেছে, একটি খুচনি জালে প্রতিবার আট-দশটি চিংড়ির রেণুর সঙ্গে ট্যাংরা, পোয়া, তপসিসহ বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য মাছের পোনা উঠে আসে। চিংড়ির রেণু আলাদা করে পাত্রে জিইয়ে রাখলেও ডাঙায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে অন্যান্য প্রজাতির পোনা মাছ।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাত্র একটি চিংড়ি পোনার জন্য পোনা শিকারিরা দুই শতাধিক অন্যান্য জাতের মাছের রেণু পোনা মেরে ফেলছে।
ফলে নদীর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নদী থেকে বেপরোয়া চিংড়ি পোনা নিধন বন্ধে ২০০১ সালে মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্বিচারে মারা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ। উপজেলার বৈঠাকাটা, চাওড়ার ঠোডাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে রেণু পোনা ধরে বেচাকেনা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে বাগদা ও গলদা পোনা শিকার। অন্তত শতাধিক জেলে রাত-দিন পায়রার বিভিন্ন স্থান থেকে গলদা-বাগদার রেণু পোনা ধরছে।
এর সঙ্গে যুক্ত আছে আড়তদার ও ঘেরমালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির লোক। গলদা চিংড়ির আড়তদাররা সাধারণ জেলেদের দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে অল্প টাকায় রেণু পোনা শিকার করতে বাধ্য করছে।
নাম প্রকাশে না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন আমতলী তালতলীর বিভিন্ন এলাকার পোনার পাতিল পাচার হয়।
আড়তদাররা এ পোনা ট্রাকে করে খুলনা, মোংলা, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিচ্ছে। গলদা ও বাগদার রেণু চালান করতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন সেক্টরে টাকা দিতে হয়।
আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হালিমা সরদার বলেন, রেণু পেনা ধরা ও পরিবহন করা আইনগত অপরাধ। আমতলী উপজেলা মৎস্য অফিস এ বিষয় তৎপর রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে জানান, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। অবৈধ মৎস্য শিকারি রেণু পোনা ধ্বংসকারী ও আড়তদারদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও জানান তিনি।








































