কুয়াকাটায় মাইলের পর মাইল কৃষি জমি অনাবাদী

ফেব্রুয়ারি ০৪ ২০২৩, ২১:৪৪

 সুনান বিন মাহাবুব, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর পর্যটন এলাকা কলাপাড়া ও কুয়াকাটায় অন্তত ১০ হাজার একর কৃষিজমি কৃষকের হাতছাড়া হয়ে গেছে। এসব জমির অন্তত এক তৃতীয়াংশ এখন স্থায়ীভাবে পতিত হয়ে গেছে।

এ কারণে প্রতিবছর অন্তত ১৫ হাজার মেট্রিক টন ধানসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্যের উৎপাদন কম হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাজার হাজার একর কৃষি জমি হাউজিং কোম্পানি কিনে বাউন্ডারি দিয়ে ফেলে রেখেছে বছরের পর বছর।

স্থাণীয় বাসিন্দা খাজুরা গ্রামের মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, ১৫-২০ বছর আগে কুয়াকাটার বিশাল এলাকাজুড়ে ধানের পাশাপাশি তরমুজ, ডাল জাতীয় ফসলের বাম্পার ফলন হতো।

আর এখন ইয়েস বাংলা ছাড়াও ইউনিক কোম্পানি প্রায় ১০ একর সাগর নীড় প্রকল্পের বিরাট এলাকা দেড়যুগ ধরে অনাবাদি ফেলে রেখেছে। এছাড়াও ওই এলাকা থেকে ওয়াজেদ খান, শামসুল হক, মুনসের, ফজু হাওলাদার, মোসলেম আলী, কালামসহ বহু কৃষক তাদের নিজ জমিজমা বিক্রি করে পাশের বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে।

জানা গেছে, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা ছাড়া এর আশপাশের ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমি কৃষকের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদনে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কুয়াকাটা কলাপাড়ায় কয়েক কোটি টাকার রবিশস্যসহ শাকসবজির আবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতি বছর এই অঞ্চলে কয়েক কোটি টাকার তরমুজের আবাদ হতো। যা এখন হয় না বললেই চলে।

কলাপাড়া উপজেলার ২০১১ সালের ল্যান্ডজোনিং রিপোর্ট অনুসারে উপজেলার লতাচাপলী এবং ধুলাসার ইউনিয়নে মোট জমির পরিমাণ ২৫ হাজার দুই ’শ ৭৩ একর। এর মধ্যে কৃষি জমির পরিমাণ ১৩ হাজার চার ’শ ৪১ একর। সবুজের আস্তরণে ঢেকে থাকা সাগরপারের জনপদ পরিণত হতে যাচ্ছে বিরানভূমিতে।

এসব বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে কয়েক বছর আগে খাজুরা এলাকার সহ¯্রাধিক সাধারণ মানুষ মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ জানান, সরকারিভাবে কলাপাড়ায় অন্তত আট হাজার হেক্টর কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে হেক্টর প্রতি অন্তত ৪ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হতো। তবে এখন জমি কমলেও কৃষকরা উন্নত জাতের ধানের আবাদ করে ফলন বাড়িয়েছে।

আ/ মাহাদী

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও