বাউফলে বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে আলগী নদী
ডিসেম্বর ২৫ ২০২২, ২০:৩০
বাউফল প্রতিনিধি ॥ বাউফলের কালাইয়া বাণিজ্যিক বন্দরের বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে আলগী নদী। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। কালাইয়া বাজার থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও পয়ঃনিস্কাশন, ময়লা-আবর্জনার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
দক্ষিণাঞ্চলের ধান, চাল, গরু ও মহিষের হাট হিসেবে পরিচিত কালাইয়া বন্দর। প্রতি সোমবার এখানে হাট বসে। প্রতি সপ্তাহে কয়েক কোটি টাকা লেনদেন হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যাপারীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় হাটটি। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারের রাজস্ব দিয়ে স্যানিটেশন, বর্জ্য পরিস্কার, সড়ক সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক বন্দরের কতিপয় ব্যক্তি নদীর দুই তীরের বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁর আবর্জনা ফেলে দখল করে নিচ্ছেন। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, তেঁতুলিয়া নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে পৌর শহরের বুক চিরে কালিশুরি ধুলিয়া হয়ে আবার তেঁতুলিয়ায় মিশেছে আলগী নদী।
নদীটি দিয়ে প্রতিদিন ট্রলার, কার্গো, ফিশিং বোট যাতায়াত করছে। তবে বিশেষ পদ্ধতিতে নদীতে ‘ঝাড়া’ ঝাউ দিয়ে বর্জ্য আটকে রেখে দুই তীরে বহু অবৈধ স্থাপনা তৈরি হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, বন্দরের ময়লা-আবর্জনার পাশাপাশি অসংখ্য বাসাবাড়ির টয়লেটের বর্জ্য মিশছে নদীতে। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বন্দরের আশপাশে।
দূষণ ও নাব্য হারিয়ে নদীতে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়ার ভাষ্য, বাজারের রাজস্ব দিয়ে বাজার উন্নয়নের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পয়ঃনিস্কাশনের নালাও নেই। স্থানীয় বাসাবাড়ির টয়লেটের পাইপ নদীর সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মার্চেন্ট পট্টির খোকন বলেন, প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে নদীর পাড় দিয়ে।
দুর্গন্ধে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। ঢাকা-কালাইয়া রুটের লঞ্চ ঈগলের সুপারভাইজার আমির হোসেন বলেন, কয়েকবার ড্রেজিং করার পরও নাব্য ফিরে আসেনি। জোয়ারের সময় পানি মেপে নোঙর করতে হচ্ছে। জোয়ারের সময় ট্রলার দিয়ে ধান-চাল পরিবহন করেন ব্যবসায়ীরা।
এতে পরিবহন খরচ বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধান-চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম শাহিন। কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনন্ত আনোয়ার জয়া বলে, এক দিন মাস্ক পরে এলে পরের দিন তা ব্যবহার করতে পারছি না, সড়কের ধুলাবালু বাতাসে উড়ে অন্ধকার করে দিচ্ছে। বাজারের উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিন আক্তার।
তিনি বলেন, বাসার জানালা খুললেই ঘরে ঢোকে দুর্গন্ধ। শিক্ষার্থীরা নাক চেপে চলাচল করে। কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ মনির মোল্লা বলেন, সম্প্রতি লঞ্চঘাট থেকে তেঁতুলিয়া নদী পর্যন্ত খালটি ড্রেজিং করা হয়েছে। ময়লা ফেলার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমিন জানান, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







































