বাউফলে বিদ্যালয়ের সুবর্ন জয়ন্তী পালনে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিভক্ত

ডিসেম্বর ২১ ২০২২, ১৯:৪৪

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারী ৫৬ বছরে পদার্পন করতে যাচ্ছে।

একটি মহল বিদ্যালয়টিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রুপ দিতে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন ৫০ বছর পূর্তী সুবর্ণ জয়ন্তি।

এতে করে দ্বিধা-দ্বন্ধ দেখা দিয়েছে ওই বিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকসহ সুশীল সমাজের মধ্যে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা ডজন খানেক বিসিএস ক্যাডার, অধ্যাপক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পদস্থ কর্মকর্তাসহ অনেকের মধ্যেই নেই ৫০ বছর পূর্তি সুবর্ন জয়ন্তির উৎসাহ-উদ্দীপনা।

এলাকাবাসী ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের ধারণা, একটি মহল নিজেদের পকেট ভরার জন্যই কেবল এ বিতর্কীত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন সূবর্ন জয়ন্তি উপলক্ষ্যে ব্যাপক চাঁদা তোলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পক্ষে-বিপক্ষে স্যোসাল মিডিয়া (ফেসবুকে) লেখালেখি চলছে হরদমে। এ সুবর্ণ জয়ন্তি পালনে আগ্রহ কিংবা উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই এলাকাবাসীসহ ওই স্কুল থেকে পাস করা বড় একটা অংশ শিক্ষার্থীদের মাঝে। সুশীল সমাজ মনে করছেন নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯৬৮ খিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেমতে, স্কুলের বর্তমান বয়স ৫৫ বছর।

অর্থাৎ ৫৬ বছরে পদার্পণ করছে আগামী ০১ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে। অতএব, ৫০ বছর সুবর্ণ জয়ন্তি পালনের কোন যুক্তিকতা নেই। শুধু নিজেদের পকেট ভারী করতে মরিয়া একটি মহল।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। সুবর্ন জয়ন্তি উপলক্ষ্যে গত ১০ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রেশন করার ফরম পুরনের শেষ দিন হলেও কত ফরম বিক্রি হয়েছে এবং কি পরিমাণ চাঁদার টাকা কালেকশন হয়েছে সেই হদিস মিলছে না কারো কাছে।

এমনকি কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না ওই প্রভাবশালী মহলের ভয়ে। এ ব্যাপারে ওই স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী মোঃ আফছার উদ্দিন মৃধা জানান, আমরা ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা কোন দ্বিধা-দ্বন্ধ চাই না।

একটি মহল হিংসাত্মক ভাবে স্কুলটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। তবে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সবার, একক পরিবারের হওয়া উচিত নয়। কেন এবং কি জন্য ৫০ বছর সুবর্ণ জয়ন্তি পালন করছেন তা আমার বোধগম্য নয়। এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র এবং সুবর্ন জয়ন্তি পালন কমিটির ঘোষিত সভাপতি মোঃ টিপু সুলতান এবং সাধারন সম্পাদক মমিন খান বলেন, আমরা ২০১৭ সালে এই সুবর্ণ জয়ন্তি পালন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।

কিন্তু পারিবারিক ভাবে ওই ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান পরিবারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমরা ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব না।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সুবর্ন জয়ন্তি পালন কমিটির সভাপতি উইন কমান্ডার খম মশিউর রহমান লাভলু বলেন, সুবর্ন জয়ন্তি যে কোন সময় করা যায়। ভালো কাজ করতে গেলে কিছু দুষ্ট লোকদের অভিযোগ থাকবেই। সুবর্ন জয়ন্তি উপলক্ষ্যে সমস্ত ব্যয় আমি নিজেই বহন করবো। কারো কাছ থেকে কোন প্রকার অর্থ নেয়া হচ্ছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও