শেবাচিমে রোগীদের কাছ নেওয়া অতিরিক্ত টাকা স্টাফ নার্সদের পকেটে!
ডিসেম্বর ১৩ ২০২২, ১৭:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে দুটি সাইনবোর্ড। তাতে লেখা-‘রোগীর টিকিট মূল্য ১০ টাকা। রোগীর ভর্তি ফি ১৫ টাকা। উপরোক্ত টাকার বেশি দিবেন না। দাবি করলে কর্তৃপক্ষকে জানান।’ কিন্তু এখানে অহরহই নেয়া হয় বাড়তি টাকা।
হাসপাতালে জরুরি সেবা নিতে গিয়ে এ বাড়তি টাকা নেয়ার ব্যাপারে কেউ কর্তৃপক্ষকেও জানান না। এছাড়াও ভর্তি হতে গেলে দুইবার কাউন্টার ঘুরতে হয় রোগির স্বজনদের। এভাবেও হয়রানির শিকার হন তারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোগীর ভর্তি ফি ১৫ টাকার বদলে নেয়া হয় ২০ টাকা। তবে টিকিটের মূল্য নির্ধারিত ১০ টাকা হলেও নেয়া হয় ২০ টাকা।
রোগীর ভর্তি ফি ১৫ টাকার ক্ষেত্রে খুচরা নেই জানিয়ে টিকিটপ্রতি পাঁচ টাকা বেশি নেয়া হয়। এ টাকা দায়িত্বরত দুই স্টাফ নার্সরাই সমানভাবে ভাগ করে নেন। তারা কখনও কখনও ভর্তি ফি ২০ টাকারও বেশি নিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েকদিন আগে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিন রাতে সাড়ে ৮টার দিকে জরুরি বিভাগে গিয়ে বেশি টাকা নেয়ার চিত্র দেখা যায়। ওই রাতে কাউন্টারে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে ছিলেন স্টাফ নার্স নয়ন ও লিটন। জরুরি বিভাগের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েই অন্তত ১৫ জন রোগীকে ভর্তির ক্ষেত্রে তাদের বাড়তি টাকা আদায়ের চিত্র দেখা যায়। রোগীর যেসব স্বজন ভর্তি ফরম সংগ্রহ করছিলেন তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অথচ ভর্তি ফরমের ওপরেও লেখা আছে এর মূল্য ১৫ টাকা।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোনো রোগীকে ভর্তি করতে হলে তার জন্য দুইবার টিকিট কাউন্টারে যেতে হয়। রোগীকে আনার পর প্রথমে ১০ টাকার একটি টিকিট নিয়ে রোগীকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কাছে দেখাতে হয়। এরপর তিনি যদি রোগীকে ভর্তি করানোর প্রয়োজন বোধ করেন তাহলে তার জন্য এবার ভর্তি ফরম কেনার প্রয়োজন পড়ে। প্রথমবার টিকিটের দাম ১০ টাকার স্থানে ২০ টাকা রাখা হয়। পরেরবার ১৫ টাকার টিকিটেও নেয়া হয় ২০ টাকা।
তবে কেউ ১৫ টাকা দিলে বাড়তি টাকা চেয়ে নিতে দেখা যায়নি। কিন্তু কেউ ফরমের দাম জানতে চাইলে ২০ টাকা বলতে দেখা গেছে। মূল্য ১৫ টাকা লেখা থাকার বিষয়ে রোগীর স্বজন জানতে চাইলে কাউন্টার থেকে জানানো হয়- তাহলে খুচরা ১৫ টাকা দিন। তবে জরুরি সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা পাঁচ টাকার জন্য বাগবিতণ্ডায় জড়ান না। ২০ টাকা দিয়ে তারা ফরম নিয়ে ছোটেন। দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জন রোগী ভর্তি হন। প্রতিটি টিকিট ও ভর্তি ফরমের জন্য ১০ অথবা ৫ বেশি নেয়া হলে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়তি নেয়া হয়।
বাড়তি নেয়া এই টাকা কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের স্টাফ নার্সরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। ফরমের মূল্য বেশি নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্টাফ নার্স নয়ন ও লিটন তা অকপটে স্বীকার করেন। তবে তারা দাবি করেন, অনেক সময় অজ্ঞাত রোগী নিয়ে আসা হয় জরুরি বিভাগে।
হাসপাতালে তার কোনো স্বজন থাকে না। কিন্তু তার ক্ষেত্রেও ২৫ টাকার দুটি টিকিটের প্রয়োজন হয়। তখন অন্যদের কাছ থেকে নেয়া অতিরিক্ত পাঁচ টাকা এই রোগীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, কারও নামে যদি এ অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুযোগ নেই।








































