কর্মস্থলমুখি দক্ষিণাঞ্চলবাসী
মার্চ ২৮ ২০২৬, ২০:৫৪
আরিফ হোসেন ॥ ঈদ ও মহান স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষ। তাই দক্ষিণাঞ্চলবাসী এবার কর্মস্থলমুখি জনস্রোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বরিশাল নদীবন্দর সহ দক্ষিণের সব নৌ ও বাস টার্মিনালগুলোতে। বরিশাল নদীবন্দরের টার্মিনাল থেকে ধারন ক্ষমতার দ্বিগুনের বেশী যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে র্টামিনাল ত্যাগ করেন ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করা লঞ্চগুলো। তবে নৌযানে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
বৃহস্পতিবার থেকে বড় মাপের ১৪টি নৌযান অর্ধলাখের বেশি যাত্রী নিয়ে বরিশাল বন্দর ত্যাগ করেন। এর শুক্রবারও ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো বরিশাল থেকে ছেড়ে যায় এবং আজ শনিবার প্রচুর ভীড় রয়েছে লঞ্চ র্টামিনালে। তবে যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা জায় কাল রোববার সব অফিস আদালত ঈদের ছুটির শেষে পুরো দমে খুলছে। তাই নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতেই ঢাকামুখি হচ্ছে তারা।
এদিকে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ ঝুঁকি এড়াতে যাত্রী বোঝাই নৌযানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনাল ত্যাগে বাধ্য নিদের্শ দেন। তবে এসব কিছুর পরেও রাষ্ট্রীয় নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠান বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের জন্য কোন নিরাপদ স্টিমার সার্ভিসের ব্যবস্থা করতে পারেনি কতৃপক্ষ। ফলে দুর্ভোগ বাড়ছে দক্ষিণা জনপদের মানুষের। বরিশালের মত এ অঞ্চলের অন্য দুটি নদীবন্দরেরও একই চিত্র।
তবে ঈদের টানা ৭দিনের ছুটি শেষে গত সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারী দপ্তর খুললেও ৩ দিনের ছুটির কারণে বেশীরভাগ শ্রমজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরেনি। তাই শুক্রবার থেকে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। ফলে কোন যানবাহনেই তিল ধরণের ঠাঁই নেই। অনুরূপ চিত্র বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সহ এ অঞ্চলের সব বাস টার্মিনালে। প্রতিদিন শুধু বরিশাল বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩শ যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় গেলেও কোন কাউন্টারে টিকেট নেই। বরিশালের মত এ অঞ্চলের অন্য দুটি নদীবন্দরেরও একই চিত্র।
ঈদের টানা ৭দিনের ছুটি শেষে সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারী দপ্তর খুললেও বৃহস্পতিবার থেকে আরো ৩দিনের ছুটির কারণে বেশীরভাগ শ্রমজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কিছুটা বিলম্ব করে। সরকারি-বেসরকারী দপ্তরে কর্মরতদের অনেকেই ২৪ ও ২৫ মার্চ ঐচ্ছিক ছুটি গ্রহণের কারণে বৃহস্পতিবার থেকেই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। ফলে কোন যানবাহনেই তিল ধরণের ঠাঁই নেই। ঈদ পরবর্তি বিমান এর কোন ফ্লাইটেও একটি টিকেট মিলছে না। আর বেশীরভাগ শ্রমজীবী মানুষই পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদের দিনের মত ঈদের পরের দিনও ঘরে ফিরেছেন।
ফলে পুরো সপ্তাজুড়ে কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থলমুখি স্রোত অব্যাহত রয়েছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবী শনিবার পর্যন্ত কর্মস্থলমুখি মূল জনস্রোত অব্যাহত থাকার পাশাপাশি আগামী সপ্তাহ জুড়ে পরিবহন সেক্টরে যাত্রী চাপ থাকবে। তবে বাড়তি যানবাহনে কর্মস্থলমুখি শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের ভীড় সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এমনকি কোন নৌযানের ডেকে পা রাখার মত পরিস্থিতিও নেই গত তিন দিন ধরে। অনুরূপ চিত্র শুধু লঞ্চঘাটে নয়।
বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সহ এ অঞ্চলের সব বাস টার্মিনালে একই চিত্র। প্রতিদিন শুধু বরিশাল বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩শ’ থেকে ৫শতাধিকের মত যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় গেলেও কোন কাউন্টারে টিকেট নেই। বরিশাল থেকে উত্তবঙ্গমুখি অন্যান্য রুটের বাসেও টিকেট বিক্রী শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে।শুধুমাত্র বিআরটিসির বরিশাল-ঢাকা সহ অন্য রুটগুলোর কাউন্টারে দিনের টিকেট মিললেও সেখানে খোলা আকাশের নিচে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ ও শিশু যাত্রীদের বেহাল দশা।








































