বকেয়ার চাপ
দেশে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা
মার্চ ০১ ২০২৬, ০২:০৯
বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদন-বিতরণ খাতে ক্রমবর্ধমান বকেয়া এই তিন সংকট একসঙ্গে জটিল হয়ে ওঠায় দেশে আবারও লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গ্রীষ্মের চাহিদা বাড়ার আগেই যদি জ্বালানি আমদানি ও বকেয়া পরিশোধে গতি না আসে, তাহলে চাহিদা-সরবরাহের ব্যবধান বড় হতে পারে। নীতিনির্ধারকরা অবশ্য আশ্বস্ত করে বলছেন, ‘সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।’
চাহিদা-সরবরাহের ফারাক : সংখ্যার ভাষায় বাস্তবতা
গ্রীষ্মকালীন পিক আওয়ারে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ১৬-১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে এমন পূর্বাভাস রয়েছে। কিন্তু একযোগে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখা সম্ভব হয় না। রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ঘাটতি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত উৎপাদন প্রায়ই সক্ষমতার চেয়ে কম থাকে। ফলে লোডশেডিং বা বিকল্পভাবে লোড ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন পড়ে। বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তদারকিতে থাকা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা গেলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব; তবে বৈদেশিক মুদ্রা ও বকেয়া পরিশোধের গতি গুরুত্বপূর্ণ।অপারেশনাল ক্ষতির তথ্যও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সময়সীমা ২০২৬ থেকে বাড়িয়ে ২০২৮ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সঞ্চালন লাইন না থাকায় শুরুর দিকে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
অবকাঠামো আছে, ব্যবহার কম
ঢাকা খুলনা রেললাইন প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের পর দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ। সক্ষমতা থাকলেও বাংলাদেশ রেলওয়ে দিনে মাত্র দুই জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা করছে। অবকাঠামো বিনিয়োগ ও বাস্তব চাহিদার মধ্যে এই ব্যবধান এখন আলোচনায়।
গাজীপুর বিমানবন্দর বাস দ্রুত পরিবহন করিডর প্রকল্পেও ২ হাজার ৮০০ কোটির বেশি ব্যয় হয়েছে। নকশাগত ও ধারণাগত ত্রুটির কারণে প্রকল্পটি এখনো শেষ হয়নি। ভেঙে ফেলতে হলে আরও প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশ্ন এখন জবাবদিহির
অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণ নেয়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সময়মতো বাস্তবায়ন, সঠিক নকশা, কার্যকর তদারকি এবং অর্থনৈতিক ফেরত নিশ্চিত না হলে ঋণ উন্নয়নের বদলে দায়ে পরিণত হয়।
নতুন সরকারের জন্য তাই চ্যালেঞ্জ শুধু ঋণ পরিশোধ নয়, বরং প্রকল্প বাছাই, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করা। অন্যথায় ঋণের অঙ্ক বাড়বে, আর অর্থনৈতিক চাপও দীর্ঘমেয়াদে বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।









































