আজ থেকে ইলিশ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা ॥ হুমকির মুখে জেলেদের জীবিকা
ফেব্রুয়ারি ২৮ ২০২৬, ০৯:১০
ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় ভোলার মেঘনা নদী ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় শনিবার মধ্যরাত থেকে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের দুই লাখের বেশি জেলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে তাদের জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, গত মৌসুমে ইলিশের সংকট থাকায় আয় কম ছিল। নতুন বছরের শুরুতেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
জেলে আ. রহিম, ইলিয়াস ও মাইনুদ্দিন বলেন, দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। মাছ ধরাই আমাদের একমাত্র জীবিকা। কীভাবে এই সময় পার করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের পুনর্বাসনে চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা সময়মতো ও সবার কাছে পৌঁছায় না বলে অভিযোগ করেন তারা। অনেক জেলে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা তৈরি করেছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় কিস্তি পরিশোধ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
জেলে মাইনুদ্দিন ও সবুজ বলেন, দুই মাসের জন্য এনজিও কিস্তি আদায় বন্ধ রাখলে আমাদের জন্য স্বস্তি হতো। পাশাপাশি দ্রুত বরাদ্দের চাল বিতরণ করা প্রয়োজন।
মাছ ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা একই সংকটে পড়েছেন বলে জানান স্থানীয় আড়তদার সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকলে জেলে পাড়া যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ভোলার বিভিন্ন মৎস্য ঘাটে জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এনজিও কিস্তি বন্ধ রাখার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।









































