উত্তরে জামায়াত দক্ষিণে এনসিপি!

মার্চ ০১ ২০২৬, ০২:৫৯

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় সাফল্য পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সংসদীয় আসন হিসেবে তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তির দলটির নজর এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের প্রায় ৫৫ লাখ ভোটারের নগর পিতা হতে দলটির ছয়জন কেন্দ্রীয় নেতা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এখনো কোনো প্রার্থীকে চূড়ান্ত হয়নি। তবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটগতভাবে এনসিপির অংশগ্রহণ নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। ফলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটিতে এনসিপি প্রার্থী দিতে যাচ্ছে বলে দলটির একাধিক সূত্রে জানা যায়। জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরেও একসঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত ও এনসিপি। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই সিটিতেই প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী এনসিপি। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, তৃণমূল সমন্বয় এবং যৌথ কৌশল নির্ধারণে এরই মধ্যে দলটির ভিতরে তৎপরতা শুরু হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্ধারণ ও নির্বাচনি মাঠ প্রস্তুত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক ও পরিকল্পনা সাজাচ্ছে এনসিপি।

সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের জন্য এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় যুব শক্তির মুখ্য সংগঠক ফরহাদ সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি নির্বাচনের জন্য দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে জামায়াতে ইসলামীও ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে বাছাই করে রেখেছে বলে দলটির সূত্রে জানা গেছে। তবে দক্ষিণে এখনো কাউকে বাছাই করেনি। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. আবদুল মান্নানের নাম। তবে ঢাকা দক্ষিণে ১১-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এনসিপিকেও ছাড়তে পারে বলে আলোচনা শোনা যাচ্ছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলে, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না। তাই প্রত্যেক দল যার যার মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঈদের পরে সবকিছু চূড়ান্ত হবে। তবে আলোচনাটি আলোর মুখ দেখলে মহানগর দক্ষিণে এনসিপিকে ছাড় দিতে পারে দলটি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। কিন্তু ইতোমধ্যে দলটি নির্বাচন পরিচালনায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে চেয়ারম্যান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলীয়ভাবে করা এই কমিটিতে সদস্যসচিব করা হয়েছে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদকে।

ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ও এনসিপির মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, সিটি নির্বাচন দলীয় প্রতীকে নয়। বরং প্রার্থীর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখনো যেহেতু তফসিল ঘোষণা হয়নি। তাই জামায়াতের সঙ্গে জোটগত নির্বাচন নিয়ে অগ্রীম কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে আমরা কাজ করব। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দল প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনে প্রার্থী করার কথা ভাবছে। গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারে আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছি, সংকটকালে বিভিন্ন সময়ে আমাকে সিটি করপোরেশনগুলোর বিষয়েও কাজ করতে হয়েছে। একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচন চূড়ান্তভাবে যদি করি, নাগরিকরা আমাকে নির্বাচিত করলে তাদের সেবা নিশ্চিতে ভালো ভূমিকা রাখতে পারব। আমি ঢাকা দক্ষিণের প্রতিটি নাগরিকের ঘরে ঘরে যাব আমার পরিকল্পনা নিয়ে ইনশাল্লাহ।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এক্সক্লুসিভ আরও