মায়েদের কাছে সন্তানের চেয়ে মোবাইল প্রিয়
ডিসেম্বর ০৮ ২০২২, ০১:৪৮
সুমাইয়া জিসান ॥ বর্তমান সময়ে সন্তানের চেয়েও এক শ্রেণীর মায়েদের কাছে মহা মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। এটা না হলে যেন জীবন চলে না।
সারাদিন না খেয়ে, সন্তানদের খোঁজ খবর না নিয়ে থাকা যায়। কিন্তু সোসাল মিডিয়ার খোঁজ খবর না নিয়ে থাকা যায় না। ক্ষুধা নিবারণের জন্য মোবাইল ফোন লাগবে। এতে করে সন্তানরা কি করছে না করছে তার খোঁজ খবর রাখছেন না মায়েররা। এমন আচরণের ফলে সন্তানরা দিন দিন একাকীত্ব বোধ করছেন।
মায়েদের কাছ থেকে দূরে চলে যাচ্ছেন, জড়াচ্ছেন অপরাধ মূল কর্মকান্ডে, ভেঙ্গে যাচ্ছে সংসার। প্রতিকারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেউ। যার কারনে মা সন্তানের সম্পর্কে দেখা দিচ্ছে ফাটল। ভালোবাসার অভাবে বাড়ছে দূরত্ব। যেখানে মা সন্তানের সবচেয়ে আপনজন। মায়ের কাছেও সন্তান থেকে প্রিয় কেউ নেই।
সেখানে সবচেয়ে কাছের আপন হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সোসাল মিডিয়া ছবি আপলোড, চ্যাটিং থেকে শুরু করে নানা ধরনের কাজ করছেন এসব মায়েরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আধুনিকায়ন এই যুগে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ।
স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের জীবন এখন আমরা কল্পনাও করতে পারিনা। শিশু থেকে শুরু করে সবার হাতে রয়েছে স্মার্টফোন। আর এই স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে মা ও সন্তানদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে।
এমনকি কিছু মায়েরা স্মার্টফোন ব্যবহারটাকে নেশায় পরিনতি করেছে। বেশিক্ষণ স্মার্টফোনে মুখ গুঁজে থাকার কারনে সন্তানদের খোঁজ নিচ্ছেন না এসব মায়েরা। যে কারনে মায়েদের মোবাইল ফোন অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে পারিবারিক জীবনেও দেখা দিচ্ছে সমস্যা। এ সমস্যা থেকে বের হতে না পেরে স্বামী সন্তান পর্যন্ত ত্যাগ করছেন।
মোবাইলের মাধ্যমে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে গর্ভের সন্তানকে পর্যন্ত হত্যা করছেন মা। এমন দৃষ্টান্ত দেখা গেছে বাস্তবে। বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জে ঘুমাতে না যাওয়ায় আট বছরের মেয়েকে হত্যা করেন মা। সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ছোট রাজাপুর গ্রামে মায়ের পরকীয়ায় বলি হয় তন্নি আক্তার।
উজিরপুরে খুন হয় শিশু দীপ্ত। মোবাইলে পরিচয় এর পরে কথা বলতে বলতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সালমা বেগমের পরে ছয় বছরের শিশুকে রেখে অন্যের হাত ধরে পারি জমায় অজানার পথে।
অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারনে কিছু মায়েরা সন্তানদের খোঁজ খবর রাখছেন না। ফলে সন্তানরা নেশাগ্রস্ত, চুরি ছিনতাই, বেপরোয়া গতিতে মটর সাইকেল চালিয়ে দুর্ঘটনার শিকার, বাজে আড্ডা মাদক কেনা বেচা সহ নানা অপরাধ মূল কর্মকান্ড জড়িয়ে পরছে। এমনকি প্রেমে আসক্ত হয়ে সন্তানরা আত্মহত্যা পর্যন্ত করছে।
মাদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারনে এমন হচ্ছে বলে জানা যায়। মায়েদের মোবাইল ব্যবহারের জন্য অনেক পরিবারে পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকছে। সংসার ভাঙ্গছে অনেক,বলি হচ্ছে সন্তানরা। এ বিষয় বিএনডিএন এর সভাপতি আনোয়ার জাহিদের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, দিন দিন ইন্টারনেটে নির্ভর হয়ে পড়েছি আমরা সকলে । এটা ছাড়া আমাদের জীবন এখন অসম্পূর্ণ।
এই ইন্টারনেট যেমন উপকার করছে তেমনি ক্ষতি করছে । মানুষের মাঝে যে ভালোবাসা ছিলো তা আজ নেই। ভালোবাসার মাঝে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে ইন্টারনেট। এতে মানবিক অনুভূতি দিন দিন লোপ পাচ্ছে। মানুষের মনে দানা বাঁধছে হিংগ্রতা। নৈতিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে মানুষ।
সামান্য ঘটনাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষ। সন্তান পরিবার পরিজনদের খোঁজ খবর রাখছে না কেউ এমনকি সন্তানরা কি করছে , কোথায় যাচ্ছে তার দিকেও খেয়াল নেই মায়েদের।
শুধু পরে থাকছে মোবাইল ফোন নিয়ে। এতে যেমনি বেড়েছে আত্মহত্যা তেমনি ভাঙ্গছে সংসার। যতক্ষণ পর্যন্ত মোবাইলে এই অপব্যবহার ব্যবহার বন্ধ না করা হবে ততোক্ষন পর্যন্ত এমন অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটবে আমাদের সমাজে।
সন্তানদের কথা চিন্তা করে এর ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। এ বিষয় প্রফেসর শা শাজেদার সাথে কথা বলতে গেলে জানান, বর্তমান সময়ে বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে মোবাইল ফোন।
চাকরি জীবী থেকে শুরু করে গৃহিনীরা সকলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে । এটা ব্যবহারের ফলে কেউ কারো খোঁজ খবর নিচ্ছেন না। এতে করে আমাদের মানসিকতার যে পরিবর্তন ঘটছে তাতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হচ্ছে। বাবা মায়ের কাছ থেকে সন্তানরা সঙ্গ চায় ।
কিন্তু মোবাইলের কারনে সঙ্গ দিচ্ছেনা। করোনা কালিন সময় এটার ব্যবহার বেশি বেড়েছে। এতে করে বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা। সন্তানদের প্রতি খেয়াল দিতে পারছে না। মায়েদের এই জায়গা থেকে সরে আসতে হবে । এদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হবে। তাহলেই এই অবক্ষয় দূর করা যাবে সমাজ থেকে।
আ/ মাহাদী








































