এতিম শিশুরা রমজানে চায় একটু সহযোগীতা

ফেব্রুয়ারি ২৫ ২০২৬, ১৯:২০

ডেস্ক প্রতিবেদক ॥ এতিম বলতে মূলত ১৮ বছরের কম বয়সি এমন একটি শিশুকে বোঝানো হয়, যে তার মা-বাবা একজন বা উভয়কেই হারিয়েছে। যে সমাজে পারস্পরিক সহানুভূতিশীল ও বন্ধু ভাবাপন্ন সম্প্রীতি বজায় থাকে, সে সমাজে এতিমের সঙ্গে কঠোর ও রূঢ় আচরণ হয় না।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘(হে নবী) আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না।’ (সূরা দুহা, আয়াত-৮)। এতিমের কষ্ট মূলত তার মাতা-পিতার স্নেহ ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া, যা তাকে সমাজে একা ও অসহায় করে তোলে। এতিম শিশুরা প্রায়শই আর্থিক, মানসিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় এবং তাদের বেড়ে ওঠার জন্য বিশেষ সহানুভূতি ও সমর্থনের প্রয়োজন। ইসলামে এতিমের প্রতি যত্ন নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

এতিমদের প্রতি যে সম্পদ ব্যয় করবে তা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হওয়া উচিত। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা আহারের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও (আল্লাহর ভালোবাসায়) অভাবী, এতিম ও বন্দিকে আহার্য দান করে, (এবং তারা বলে) শুধু আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদের আহার্য দান করি। বিনিময়ে তোমার থেকে কোনো প্রতিদান চাই না।’ (সূরা দাহর, আয়াত-৮, ৯) রয়েছে।

তবে আগে মানুষ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দানের হাত বাড়িয়ে দিলেও বর্তমানে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দিকে দান করা কমিয়ে দিয়েছে। তাই বেশির ভাগ এতিমখানায় কষ্ঠে জীবন যাপন করছে এতিমখানার শিক্ষার্থীরা। এমনই একটি এতিমখানার খবর পেয়ে প্রতিবেদক এমিখানটিতে যান।

এতিমখানাটি হলেন বরিশাল নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের পলাশপুরের ৭ নং মধ্য কালবাট সংলগ্ন পলাশপুর রহমানীয়া ক্বিরাতুল কুরআন হাফিজী মাদ্রাসা পাবলিক এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংটি। আজ ৮ রমজান। এখন পর্যন্ত কোন অর্থ বা একটি ইফতারও আসেনি এতিমখানাটিতে। এমনটাই জানিয়েছেন মাদ্রাসার পরিচালক ফিরোজী। প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত এক বছর ধরে মাদ্রাসা ও এতিমখানাটি অর্থের অভাবে অনেক কষ্ঠে চলছে। তবে কষ্ঠ হলেও কি আর করবো।

এতিম শিশুদের তো ফেলে যেতে পারিনা। কারন ওরা আমার সন্তান। ফিরোজী আরো বলেন, ৭ টি রোজা শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই এতিমশিশুদের ইফতারে চিড়া,মুড়ি, বুট, আর একটা পেয়াজু ছাড়া ভালো কোন খাবার এখন পর্যন্ত দিতে পারিনি। এই ৭ দিন তাও মাদ্রাসার সামনের দোকান থেকে বাকিতে আনছি। প্রতিবছর ঈদে এই বাচ্চাদের একটা পাঞ্জাবি ও লঙ্গি দেই। তবে এবার কি করবো তা জানি না। অন্যদিকে ৩ বেলা খাবারের অর্থ জোগার করতে হিমশিম খাচ্ছি।

এ অবস্থা চলছে পায় এক বছর ধরে। তিনি সমাজের দ্বীন-দরদী ভাই-বোনদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন চাল, কাপড়, নগদ টাকা, যাকাত, ফিৎরা, মান্নত, সদকাই এই মাদ্রাসার ও এতিমখানার এতিম শিশুদের জন্য দেওয়ার এতিম ছাত্রগুলোকে নিয়ে মাদ্রাসাটি চালাতে বেশ কষ্ট হয়।

সামর্থবান ও দানশীল ব্যক্তিরা এই মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের মুখের দিকে তাকিয়ে সহযোগীতা করলে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আরও ভালোভাবে করা যেত।’

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭  

এক্সক্লুসিভ আরও