খনন করার পরও প্রাণ পাচ্ছে না ‘কুয়াকাটা খাল’

মে ০১ ২০২৩, ১৩:৩১

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: অস্তিত্ব সংকটে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় অবস্থিত ‘কুয়াকাটা খাল’। দু’পাড়ে বসবাসকারী ও ব্যবসায়ীদের অবাধ দখল আর বর্জ্য ফেলার কারণে নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

খালটি অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে বছরখানেক আগেও খনন করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ীদের অসচেতনতার কারণে আবারও অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (কুটুম) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, খালটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবার আন্তরিক হতে হবে। খালের জমি উদ্ধার করে একটি নান্দনিক লেক করতে পারলে পর্যটনের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা পৌর শহরের এই খালটির দুই পাশে একাধিক স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করা হয়েছে। খালের মধ্যে পিলার বসিয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

বাসাবাড়ির বর্জ্য, আবাসিক হোটেলের পয়ঃনিষ্কাশন ও ময়লা-আবর্জনা অবাধে ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া কুয়াকাটার মাছ বাজারের ময়লা-আবর্জনা যাচ্ছে খালের পানিতে। ফলে কুয়াকাটা পৌরসভার মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত এ খালের পানি কালচে রং ধারণ করেছে।

কুয়াকাটা খালটি পৌরসভার পাশ দিয়ে পূর্বদিকে নবীনপুর এবং পশ্চিমে লতাচাপলী ইউনিয়নের ফাঁসিপাড়া পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটির দু’পাড়ে বসবাস করছে কয়েকশ’ পরিবার। কুয়াকাটা পৌরসভার বাসিন্দা আবদুল খালেক বলেন, ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে পানি নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে।

মহিপুর ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এসএ রেকর্ড অনুযায়ী কুয়াকাটা খালটির অবস্থানভেদে প্রস্থ ৬০ থেকে ১০০ ফুট। খালটির আয়তন ছিল ৬০ একর ৫৯ শতাংশ।

বর্তমান বিএস জরিপে দেখানো হয়েছে ৩৭ একর ৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে সাত একর লতাচাপলী ইউনিয়নে বাকি অংশ কুয়াকাটা পৌরসভায়। এসএ নকশা অনুসারে ৬০ একর ৫৯ শতাংশ খালের সীমানা চিহ্নিত করে খালটি উদ্ধার করার দাবি পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কলাপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, ‘খালটির অস্তিত্ব রক্ষা করা খুবই জরুরি।

দখল আর দূষণের কবল থেকে খালটি রক্ষা করতে না পারলে পৌর শহরটি ঝুঁকিতে পড়বে। আমরা অনেক বছর পর্যন্ত এ অঞ্চলের নদী-খাল দখল, দূষণ ও ভরাটের কবল থেকে রক্ষার দাবিতে সামাজিক আন্দোলন করছি। কিন্তু এর কোনো সমাধান আমরা দেখছি না।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, ‘খালটি মরে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে পৌরবাসী। খালের দু’পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা খুবই জরুরি। অন্যথায় যৌবন হারিয়ে মরে যাবে খালটি।’

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে খালটি জীবন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। খালের পাশের মাছের বাজারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা আছে। বাজারটি সরাতে পারলে খালে বর্জ্য ফেলা কিছুটা কমবে।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, কুয়াকাটা খালটির অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে সরজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও