দুই’শ টাকাও ঘুষ নেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী
ফেব্রুয়ারি ০৪ ২০২৩, ০১:২২
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ কাজের মান যেমনই হোক ঘুষের পরিমান বাড়িয়ে দিলে বিল নিতে বেগ পেতে হয়না ঠিকাদারদের এমন অভিযোগ রয়েছে এলজিইডির প্রকৌশলী আশিকুর রহমানের বিরুব্ধে। তিনি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
ভুক্তভোগী অনেকে অভিযোগ করে বলেছেন, তিনি ঘুষ নেন গুনে গুনে। জানা যায়, বৃহস্পতিবার(০২ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে একটি টেলিফোনের সূত্র ধরে মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে ছৈলাবুনিয়া সুইজগেট হতে শী্রনগর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৪ কিমি রাস্তার কাজ পান মেসার্স এনায়েতুর রহমান নামের পটুয়াখালীর এক ঠিকাদার।
এই ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী ঠিকাদারের সাথে আতাত করে রাস্তার কাজ শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছে। উপজেলা প্রকৌশলী নিয়েছেন মোটা অংকের ঘুষ।
সরেজমিনে রাস্তায় গিয়ে দেখা যায় প্রাইম কোট ছাড়া ময়লা আবর্জনার ভিতরে রাস্তার কার্পেটিং এর কাজ করছে এনায়েতুর রহমানের লোকজন।
সেখানে ছিলনা এলজিইডির কোন প্রতিনিধি। ৪০ মিলি ডেঞ্চ কার্পেটিং এর কাজে পাথরের নেই কোন গ্রেডেশন। রাস্তায় বিভিন্ন যায়গা ফেটে ফেটে পাথর বেড় হয়ে পরে আছে। নাম মাত্র বিটুমিন দিয়ে দায়সারা কার্পেটিং চলছে। এদিকে এই অনিয়মের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী আশিকুর রহমান নিয়েছে মোটা অংকের ঘুষ।
এতোবড় একটা কাজ দেখভাল করার জন্য প্রকৌশলী আশিকুর রহমান কোন উপ- সহকারী প্রকৌশলীকে কাজ তদারকির দায়িত্ব না দিয়ে তিনি প্রজেক্টের একজন ওয়ার্ক এসিস্ট্যানকে দিয়ে এই কাজের তদারকি করান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজিইডির এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী তার পছন্দের দু একজন কে নিয়ে পূরো এলজিইডিতে একটা ঘুষ বানিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
তিনি আরো বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখুন সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ মুখ থুবরে পরে আছে। কাজের কোন প্রগেজ নেই শুধু ঠিকাদারের থেকে অতিমাত্রায় ঘুষ আদায়ের ব্যস্ত উপজেলা প্রকৌশলী। উপজেলা প্রকৌশলী এখানেই থেমে থাকেননি।
তিনি ইতি পূর্বে জলিসা খালের উপর একটি গার্ডার ব্রীজে গভীর রাতে ঢালাই দিয়ে এনায়েতুর রহমান থেকে মোটা অংকের ঘূষ নিয়েছেন।
বেতাগীর খান এন্টার প্রাইজ নামক লাইসেন্সে কাজ করেন এমন একজন জানায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী তার চাহিদা মোতাবেক টাকা দিলে কাজ না করেও বিল তুলে নিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন এমন একজন অযোগ্য লোককে কি করে এলজিইডির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের উপজেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই।
তিনি আরো বলেন তার টেবিলে কোন ফাইল গেলে তার চাহিদা মোতাবেক টাকা না পাওয়া গেলে সে ফাইল তার টেবিল থেকে আর বের হয় না।
পটুয়াখালীর ঠিকাদার মোঃ হেলাল বলেন, আশিক এমনই একজন উপজেলা প্রকৌশলী কোন সাইড ভিজিট এ গেলে দুইশত থেকে পাঁচশত টাকাও তিনি ঘুষ নেন।
পটুয়াখালী মেসার্স কে কে এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জানায়, কয়দিন আগে সুবিদখালী কোর্টের সামনে ৪০০ মিটার একটি রাস্তার কাজ ৪ দিন ধরে আটকে রেখে পরে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে কার্পেটিং করার অনুমতি দেয়।
আর এই ৪ দিনে আমার প্রায় ১ লাখ টাকার বেশি লেবার ও মেশিন ভাড়ার ভর্তুকি দিতে হয়েছে। এ বিষয় উপজেলা প্রকৌশলী আশিকের কাছে ফোন করে তার বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ৩ ফেব্রুয়ারী সন্ধা ৭.৫০ মিনিটে ফোন করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পটুয়াখালী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ লতিফ হোসেন বলেন, কাজে অনিয়মের কথা শুনেছি এবং কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আ/ মাহাদী







































