নাক কান গলার চিকিৎসক দেন অ্যানেস্থেশিয়া!

আগস্ট ৩০ ২০২৬, ২১:৫১

বরিশাল : বরিশালের বানারীপাড়ায় দুটি বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সেবার মান ও চিকিৎসকদের কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে হামলা, হুমকি ও অপপ্রচারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন জাতীয় দৈনিক নিরপেক্ষ-এর বানারীপাড়া থানা প্রতিনিধি মো. আছিবুল ইসলাম। এ ঘটনায় তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চিকিৎসাসেবা ও অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন সাংবাদিক আছিবুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে আছিবুল ইসলাম বলেন, বানারীপাড়ার ‘হামিদ মেমোরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতাল’ ও ‘মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর চিকিৎসাসেবা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর তিনি বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ইএনটি (নাক, কান ও গলা) বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলের বক্তব্য নেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি।

সাংবাদিকের দাবি, ওই দুই প্রতিষ্ঠানে ডা. শাকিল নিয়মিত রোগী দেখেন এবং অস্ত্রোপচার ও অ্যানেস্থেশিয়া কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত—এমন তথ্য তার অনুসন্ধানে উঠে আসে। এ ছাড়া এসব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ডিগ্রি বা সনদ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয় বলে জানান তিনি।
আছিবুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য নেওয়া জরুরি ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলের বক্তব্য নেওয়ার জন্য সেখানে যান।

তার অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পর এক ব্যক্তি তাকে মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে ল্যাবে নিয়ে যান। পরে ওই ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। একই সময় তাকে ঘুষি-থাপ্পড় দেওয়া হয় এবং ওই দুই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা নিয়ে আর অনুসন্ধান চালালে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন আছিবুল ইসলাম। পরে গত ২৭ আগস্ট বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে তিনি একটি নালিশি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে আইনানুগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আছিবুল ইসলাম আরও দাবি করেন, গত ২৮ আগস্ট হামিদ মেমোরিয়াল ও মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শেয়ারহোল্ডার অর্পণ ও শুভ বানারীপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানে কোনো চিকিৎসকের শেয়ার নেই বলে দাবি করেন।
তবে তাদের এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আছিবুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের অডিও-ভিডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তার দাবি, ডা. হাফিজুর রহমান শাকিল নিজ বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সার্জারি ও অ্যানেস্থেশিয়া কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলেছেন। এ বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ডও তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও পার্সোনাল সেক্রেটারিসহ মোট তিনজনের বক্তব্যের রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

এদিকে সাংবাদিকের অভিযোগের বিষয়ে ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আছিবুল ইসলামের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। ওই ব্যক্তি একদিন ফোন করে তার কাছে আসতে চেয়েছিলেন। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন। তবে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ হিসেবে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. শাকিল বলেন, “আমার অ্যানেস্থেশিয়ার প্রশিক্ষণ নেওয়া আছে, আমি অ্যানেস্থেশিয়া দিই।”

অভিযোগের বিষয়ে ডা. শাকিলের এই বক্তব্যের পাশাপাশি সাংবাদিকের কাছে থাকা কথিত অডিও-ভিডিও রেকর্ড ও আদালতে দায়ের করা মামলার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের ওপর হামলা, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হুমকির অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি বানারীপাড়ার সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসকদের যোগ্যতা ও কার্যক্রমের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানানো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও