স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না -রাষ্ট্রপতি
আগস্ট ৩০ ২০২৬, ১৩:১২
রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। এর মাধ্যমে শুধু একজন মানুষকে নিখোঁজ করা হয় না, তার পরিবারের শান্তি, স্বপ্ন ও স্বাভাবিক জীবনও কেড়ে নেওয়া হয়। গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও আইনের সুরক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে।
গত দেড় দশকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ভিন্নমত প্রকাশকারী, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, লেখক, কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকদের তুলে নিয়ে গুম এবং গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই ফিরে এলেও অনেকে এখনো নিখোঁজ।
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতা বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিশোধ নয়, প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ বিচারের মুখোমুখি করাই এখন মূল লক্ষ্য।
গুমের শিকার পরিবারগুলোর দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বছরের পর বছর যারা প্রিয়জনের অপেক্ষায় আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয় থাকবে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। কোনো মাকে সন্তান কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আর চোখের পানি ফেলতে হবে না। গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ বন্ধ করা হবে।








































