জমে উঠেছে মাছ ধরার যন্ত্রের হাট
জুন ২৩ ২০২৬, ২১:৪৯
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: বর্ষায় নতুন পানি আসার সাথে সাথে খাল-বিল ও নদ-নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছের আনাগোনা বেড়েছে। আর এসব মাছ ধরতে গ্রামাঞ্চলে ব্যবহার হচ্ছে বাঁশের তৈরি চাই, দুয়ারী বা খাদোইন।
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান ও শ্রীরামকাঠি বাজারে এখন পুরোদমে জমে উঠেছে এসব মাছ ধরার যন্ত্রের হাট। সপ্তাহে দুদিন এসব হাটে হাজার হাজার চাই খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার চাই ও দুয়ারি তৈরির পেশার সাথে জড়িত। বছরের বর্ষা মৌসুমের ৬ মাস তাঁরা এই কাজে ব্যস্ত থাকেন। তল্লা ও কালোজিরা বাঁশ দিয়ে এই চাই তৈরি করা হয়। একটি বাঁশ থেকে ৭ থেকে ৮টি চাই তৈরি সম্ভব। তবে একজন কারিগর দিনে ৫ থেকে ৬ টির বেশি চাই তৈরি করতে পারেন না। বাজারে বর্তমানে এক কুড়ি চাই ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস চাইয়ের দাম পড়ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা।
চাই তৈরির কারিগর সুদেব বৈরাগী জানান, পরিবারের সবাই মিলে বর্ষার ৬ মাস তাঁরা এই কাজ করেন। বাঁশ কেনা থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ চাই তৈরি করতে যে কষ্ট ও খরচ হয়, সেই তুলনায় লাভ খুব বেশি থাকে না। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
এদিকে উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মা মাছের পেটে ডিম থাকে। এই সময়ে মা মাছ না ধরার জন্য জেলেদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মাছ শিকারে অবৈধ যন্ত্র বা ক্ষতিকর জাল ব্যবহার দমনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।









































