যানজটে নাকাল নগরবাসী , দুর্ভোগ চরমে

মার্চ ১০ ২০২৬, ২২:০৫

কয়েক দিন ধরে তীব্র যানজটে বরিশাল নগরীর বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ঈদ সামনে রেখে সড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। নগরীর একাধিক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় যানজট দেখা যাচ্ছে। রোজার মধ্যে তীব্র যানজটের কারণে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, অন্য সময়ের তুলনায় নগরীতে যানবাহনের চাপও বেড়েছে। অন্যদিকে কয়েকটি এলাকার ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় সড়কে যান চলাচল আরও ব্যাহত হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে যানজট তৈরি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জটের প্রভাব আশপাশের পাড়া-মহল্লাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

নগরীর কালু শাহ সড়ক এলাকার বাসিন্দা শারমিন আফরোজ মনি বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে বাসা থেকে বের হয়েছি। বাসা থেকে গন্তব্যের দূরত্ব মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিটের পথ। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।’ তিনি বলেন, ‘সদর রোড পর্যন্ত রিকশায় যেতে পারিনি। ফকির রোডে নেমে হেঁটে যেতে হয়েছে। সদর রোডজুড়েই তখন যানজট ছিল।’

বেলা ১টার দিকে নগরীর বিবির পুকুরপাড় এলাকায় রিকশায় বসে থাকা আফতাব হোসেন নামে এক বৃদ্ধ জানান, জেলখানা মোড় থেকে বিবির পুকুরপাড় পর্যন্ত আসতে তার ৩৬ মিনিট সময় লেগেছে। তিনি বলেন, ‘এখন এসে আবার এখানে বসে আছি। দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে নগরীর যানজট পরিস্থিতি বিরক্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

নাজিরেরপুল এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফারুকুল ইসলাম জানান, তার বাসা থেকে সদর রোডে হেঁটে যেতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট লাগে। কিন্তু বর্তমানে রিকশায় গেলে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় লাগতে পারে। তাই তিনি হেঁটেই সদর রোডে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আসার পথে তিনটি ট্রাফিক সিগন্যাল অতিক্রম করেছি। দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সদস্যদের দেখে মনে হয়েছে, অনেকেই নতুন। না হলে এভাবে নগরে যানজট হওয়ার কথা নয়।’

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রূপাতলী, নথুল্লাবাদ, সদর রোড, হেমায়েত উদ্দিন সড়ক, চকবাজারপুল, কাজীর রোড, দক্ষিণ চকবাজার, পোর্ট রোড, বাংলাবাজার মোড়, বগুড়া রোড, নবগ্রাম রোড, বান্দ রোড, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, কবলীর মোড়, বিবির পুকুরপাড়, কেন্দ্রীয় কারাগার মোড়, নাজিরেরপুল, কাঠপট্টি রোড, নতুন বাজার, লাইন রোড, বটতলা রোড, কালীবাড়ি সড়ক ও ফকিরবাড়ি রোডসহ নগরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের কারণে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। সকাল থেকেই থেমে থেমে এসব এলাকায় যানজট দেখা গেছে। এতে নগরবাসীকে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৫৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরীর ৪০০ কিলোমিটার সড়কে পাঁচ হাজার যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে চলাচল করছে অন্তত ৩৫ হাজার যানবাহন। এর মধ্যে বিআরটিএ অনুমোদিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রায় ২ হাজার ৫০০টি এবং সিটি করপোরেশন অনুমোদিত ব্যাটারিচালিত হলুদ অটোরিকশা প্রায় ৫ হাজার। অর্থাৎ বৈধ সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মোট সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি।

এ হিসাবে নগরের সড়কগুলোর ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি, অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রায় ২৭ হাজার যানবাহন চলাচল করে। এর সঙ্গে ঈদ সামনে রেখে প্রতিদিন শহরের বাইরে থেকেও কয়েক হাজার অতিরিক্ত যানবাহন নগরে প্রবেশ করছে। ফলে যানজট পরিস্থিতি আরও বেড়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নগরীতে মূলত ছয়টি কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ যানবাহনের আধিক্য, অপ্রশস্ত সড়ক, ফুটপাত দখল, মার্কেট ও শপিংমলগুলোর নিজস্ব পার্কিং স্পেস না থাকা, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং এবং ঈদ উপলক্ষে শহরের বাইরে থেকে বিপুল পরিমাণ গণপরিবহন প্রবেশ করা। এর পাশাপাশি চালকদের অসচেতনতাও যানজট বৃদ্ধির একটি কারণ বলে মনে করছেন তারা।

বরিশাল মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) শরীফ উদ্দিন জানান, ঈদ সামনে রেখে মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘মানুষ যেন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করে বাড়িতে ফিরতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। রমজান ও ঈদকে ঘিরে চলতি মাস থেকে ট্রাফিক বিভাগ দুটি বিশেষ দল গঠন করেছে। কোনো এলাকায় যানজটের তীব্রতা দেখা দিলে ওই দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করেন। বর্তমানে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই বিশেষ সেবা দিচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। এর বাইরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে ট্রাফিক পুলিশ আগের মতোই দায়িত্ব পালন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এক্সক্লুসিভ আরও