চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
মার্চ ০১ ২০২৬, ২১:৫৬
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি, মারধর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে কলাপাড়া পৌর শহরের উকিল পট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান অভিযুক্ত সুমন ফকির নীলগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। তার অন্য দুই সহযোগী হলেন সজীব ফকির ও মো. রাসেল।
পুলিশ জানায়, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা ভুক্তভোগী জেলে চান মিয়া গাজীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ বছর ধরে সরকারি খাল-বিলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন চান মিয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বেশ কিছুদিন ধরে ওই খালে মাছ ধরতে হলে সুমন ফকির ও তার সহযোগীদের আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করে আসছিলেন তারা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সুমন ফকির তার দলবল নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় ওই জেলের কাছে চাঁদার টাকা নিতে আসেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা চান মিয়াকে মারধর করে খালে ফেলে দেন। এ সময় তার মেয়ে বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জেলে চান মিয়া জানান, এর আগেও ভয়ভীতি দেখিয়ে সুমন ফকির ও তার বাহিনী আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে। এবার শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, থানায় অভিযোগ দিতে আসার পথেও সুমন বাহিনী তার গতিরোধ করার চেষ্টা করেছিল। তবে এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির স্থানীয় নেতারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি জানান।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, চাঁদাবাজি ও মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।








































