বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল মাছ ধরতে যেতে পারছে না জেলেরা

জুলাই ০৯ ২০২৫, ১৮:৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে উপক‚লীয় এলাকার প্রায় চার শতাধিক ট্রলার মাছ শিকার করতে গভীর সমুদ্রে যেতে পারেনি। এ বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ শিকারে যেতে না পারায় কয়েক হাজার জেলে বেকার সময় কাটাচ্ছেন।

তিগ্রস্ত হচ্ছেন ট্রলার মালিক ও মাছ ব্যবসায়ীরাও। স্থানীয় বাজারে দেখা দিয়েছে ইলিশসহ সামুদ্রিক সকল প্রকারের মাছের সংকট। মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির ল্েয সরকার ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেজ্ঞা দেয়। সেই নিষেধাজ্ঞা

শেষে জেলেরা আশায় বুক বেঁধেছিল সাগরে মাছ শিকারে যাবে, আর সমুদ্র থেকে ট্রলার ভর্তি ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরবে। এ নিয়ে ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ীদেরও ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সব আশাই শেষ করে দিয়েছে।

আবহাওয়ার সতর্ক বার্তায় জানিয়েছে, দেশের দণি-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয়তার কারণে ৮ জুলাই সকাল ১০ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (ঘন্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মি.মি) থেকে অতি ভারী (১৮৮ মি.মি) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে ভারী বর্ষণজনিত কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এ সময় দণি বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

জেলে ছগির হোসেন, মনির মিয়া, আনিচুর রহমান, এমাদুল হোসেনসহ একাধিক জেলে বলেন, ইলিশের ভরা মৌসেমের সময় সরকার দেয় অবরোধ, আর যখন অবরোধ শেষ হয় তখন থেকেই শুরু হয় সমুদ্রে নিম্নচাপ। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নি¤œচাপের কারণে গভীর সমুদ্রে কোন জেলেই মাছ শিকার করতে যেতে পারছে না।

এই নিম্নচাপে মাছ শিকার করতে গেলে উত্তাল সমুদ্র ট্রলার ডুবির সঙ্কা থাকে। যারা ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকারে গিয়েছে তাদের অনেকেই খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। কোন ইলিশ বা অনান্য মাছের দেখা মেলেনি। সবারই তেল এবং বাজারের টাকা লস হয়ে গেছে। প্রতিবছর এভাবে আবহাওয়া খারাপ থাকলে বাংলাদেশের মানুষ যে মাছে ভাতে বাঙালি তা ভুলে যাবে। প্রতিবছর মাছের সংখ্যা কমতে থাকে। অনেক জেলেই এই পেশা পরিবর্তন করেছেন। এই মৎস্য শিল্প আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলেও ধারণা করছেন জেলেরা।

এফবি আল­াহর দান ১,২ ও ৩ ট্রলারে মালিক আবুল হোসেন ফরাজী বলেন, গত এক মাস ধরেই পর্যায়ক্রমে গভীর বঙ্গোপসাগরে নি¤œচাপ চলছে। এর নি¤œচাপে বাজার সওদা করে সমুদ্রে মাছ শিকারের জন্য পাঠালেও ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতে। আমার তিনটি ট্রলারে গত এক মাসে ১৪ লাখ টাকার বাজার সওদা করে পাঠিয়েছি মাছ শিকারে।

এই ১৪ লাখ টাকা খরচ করে মাছ বিক্রি করতে পেরেছি মাত্র ৪ লাখ টাকার। গত এক মাসে আমার ১০ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। এই লোকসানে বেশি প্রভাব পড়েছে আমরা ট্রলার মালিক এবং জেলেদের উপর। গতবছরের চেয়ে এ বছরে সমুদ্রে আবহাওয়া খুব বেশি খারাপ রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে এই পেশাটা ছেড়ে দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপক‚লী এলাকার প্রায় ৪শ ট্রলার জেলেদের নিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করে ঘাটে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

এ বছর জেলেদের একের পর এক সমস্যা লেগেই আছে। কখনো সরকার নির্দেশিত মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আবার প্রাকৃতিকভাবে কখনো সাগরে নি¤œচাপ এ নিয়ে বিপাকের মধ্যে রয়েছে জেলেরা। গত কয়েক বছর ধরে ইলিশ শুন্য হয়ে পড়েছে গভীর সমুদ্র।

প্রতি ট্রিপে ট্রলার মালিকদের এভাবে লোকসান গুনতে হলে অচিরেই তারা নিঃস্ব হয়ে যাবে। এই দণিাঞ্চলের মানুষ মাছের উপর নির্ভরশীল। চলতি বছরে একের পর এক নি¤œচাপ চলছেই। এভাবে নিম্নচাপ থাকলে জেলেদের দুরবস্থার শেষ থাকবে না। দেশে মাছের উপর নির্ভর করে অর্থনীতির বড় একটি অংশ। এই সময়গুলোতে সরকারের উচিত জেলেদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এক্সক্লুসিভ আরও