সরকারি দল জনগনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে : মিয়া গোলাম পরওয়ার
মে ২৩ ২০২৬, ২০:৪২
0-4064x3074-0-0#
বরিশাল : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন-সরকারি দল জনগনের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিজেরাই ভঙ্গ করেছে।
আজ শনিবার সকালে বরিশাল নগরীর লাইন রোডস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মাদ বাবরের সভাপতিত্বে দুই দিনব্যাপী রুকন শিক্ষা শিবিরের শেষদিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন, রক্ত দিয়ে তারুন্যের শক্তিরা যে বিপ্লব করেছে, বিদ্যমান রাষ্ট্র ব্যাবস্থার পুরোপুরি বদলে দিয়ে নতুন রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার করতে হবে।
সংবিধানের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষমতায় যারাই আসুক সাংবিধানিক কাঠামো যদি সংস্কার করা থাকে, যে ব্যক্তি যাবে সে যেন আর হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে।
আইন দিয়ে, সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে এমন করতে হবে যেই ক্ষমতায় যাক সে যেন জনগনের কাছে জবাবদিহি করতে ও মানবিক বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে বাধ্য থাকে।
জুলাই সনদ না মেনে জন আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নেয়ার কারনে, সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন-মানুষের বিপুল আশা নিয়ে সরকার এবং সংসদ গঠিত হবে কিন্তু প্রথম অধিবেশনেই জনগণ আশাহত হয়েছে। সরকার জনগনের ভাষা না বুঝে জন আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে, তাই জনগণ মন্ত্রীদের দেখে ভুয়া ভুয়া বলে শ্লোগান দিচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণভোটে ৭০ ভাগ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে এটা অপ্রয়োজনীয়।
রাজনৈতিক সংকট অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে মন্ত্রী এমপিদের জনগণ থেকে পালাতে হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নেয়ার ফলে সরকার গঠনের দুই মাসের মধ্যেই সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পরছে।
তিনি বলেন, সরকারের আসার আগে জনগণের কাছে যে ওয়াদা করেছে একে একে সেগুলো পদদলিত করে একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে আগাচ্ছে।
আওয়ামী ফ্যাসিবেদী শাসন ব্যবস্থায় যে সংবিধান তৈরি হয়েছে, এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিচ্ছে,বিএনপি সেই সংবিধান রক্ষার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, সাংবিধানিক পথ সমূহ জুলুমের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী হতে অসীম ক্ষমতা দেয়া রয়েছে এর মাধ্যমে কখনোই ভারসাম্যপূর্ণ সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-যুবক রাস্তায় জীবন দিয়ে হাসিনা সরকারের মতো একটি সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে এবং দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে।
সেই ছাত্র জনতার গণদাবি ক্ষমতায় বসেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হাতে সাংবিধানিক পথ সমূহের কর্তৃত্ব থাকলে এখানে নিয়োগ হবে দলীয় ভিত্তিতে এবং জনগণ এর সুফল পাবেনা।
ছাত্র জনতার উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে গুলির সামনে বুক পেতে দেওয়া যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছিল সে আকাঙ্ক্ষা পদদলিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ৩৩ টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই সনদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিল এবং জাতীয় সংসদের দক্ষিন প্লাজায় জুলাই স্বারক অনুমোদিত হল।
৮৪ টা বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল একমত হল যে সংবিধান সংশোধনের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন দিবে।সংবিধান সংশোধনের জন্য রাষ্ট্রপতি ২৫ সালের ১৩ নভেম্বর গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একইদিনে হবে বলে প্রঙ্গাপন দিল, যদিও আমরা গনভোট আগে হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিলাম কিন্তু জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা কোন ভোট এবং জাতীয় নির্বাচন একইদিনে হওয়াটা মেনে নিলাম।
বিএনপির দাবির প্রেক্ষিতে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একইদিনে হলো এবং এর ফলাফল জনগণ দেখতে পাচ্ছে। গনভোট আগে হলে,পরিস্থিতি এমন হতো না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহিংসতায় বিশ্বাস করে না বলে বুকে পাথর চেপে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা এখনই সরকারের পদত্যাগ চাইনা, সরকার জনগণের মেন্ডেট নিয়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবে এবং জনরায়কে আমলে নিয়ে সংবিধান সংশোধন করবে।
জনগণকে ভুল বুঝিয়ে বেশি দূর আগানো যাবে না, বিএনপি তার অবস্থান পরিবর্তন না করলে জনগণ আবার রাস্তায় নেমে আসবে।
কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য ও বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিন সেক্রেটারি ড.শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা এটিএম ফকরুদ্দিন খান রাজি।
মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা আতিকুল্লাহ এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর নায়েবে আমির মাহমুদ হোসাইন দুলাল, মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান, জামায়াত নেতা শেখ নেয়ামুল করিম, ড. ফয়জুল হক প্রমুখ।









































