মঞ্চ সাজিয়েও উদ্বোধনী দিনে বন্ধ হলো বাণিজ্য মেলা

মে ২৩ ২০২৬, ০০:১২

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বরিশালে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরও আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে গেল বহুল আলোচিত ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’ (বাণিজ্য মেলা) ।

নগরীর পরেশ সাগর মাঠে আয়োজন করা এই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান অতিথি এবং জেলা প্রশাসককে বিশেষ অতিথি করার প্রস্তুতি ছিল। মঞ্চ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুন, স্টল সাজসজ্জা ও অতিথি আপ্যায়নের ব্যবস্থা সম্পন্ন হলেও উদ্বোধনের আগমুহূর্তে থেমে যায় পুরো আয়োজন। মেলার আয়োজন করেন বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও বিএনপি নেতা এবায়দুল হক চান। তবে আয়োজন ঘিরে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা ছিল নগরজুড়ে। অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, এমনকি স্থানীয় রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তিকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট জেলার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদেরও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত ছিলেন না বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নিজে জানিয়েছেন, তিনি নিমন্ত্রণ পাননি এই আয়োজনে।

জানা গেছে, শুক্রবার ২২ মে উদ্বোধনের দিন সকাল থেকেই পরেশ সাগর মাঠ এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা স্টল সাজিয়ে পণ্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেন। মঞ্চে অতিথিদের নাম সম্বলিত ব্যানারও টানানো হয়। কিন্তু বিকেলের দিকে আদালতের আদেশের খবর পৌঁছালে হঠাৎ করেই থমকে যায় পুরো আয়োজন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-৬২৯১/২০২৬ এর নির্দেশনার আলোকে ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’ (বাণিজ্য মেলা) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রস্তাবিত এই মেলা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চিঠিটি ২১ মে ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মো. মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালি মডেল থানা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়। মেলা স্থগিত হওয়ায় অংশগ্রহণকারী অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন উদ্যোক্তা জানান, স্টল ভাড়া, পরিবহন ও পণ্য আনার পেছনে তারা উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছেন। শেষ মুহূর্তে মেলা বন্ধ হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নগরবাসীর একাংশের প্রশ্ন, একটি বিভাগীয় পর্যায়ের আয়োজনের ক্ষেত্রে কেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় দেখা গেল না? আবার আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়ানোর পেছনে কী কারণ ছিল সেটিও এখন আলোচনায়।

এ বিষয়ে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবায়দুল হক চানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কথা বলতে রাজী হননি স্বয়ং জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন নিজেও। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, আয়োজকরা আদালতের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বরিশালের সচেতন মহলের মতে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে এ ধরনের আয়োজন প্রয়োজন হলেও তা হতে হবে প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনি স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে। অন্যথায় এমন আয়োজন বিতর্কের জন্ম দেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ উদ্যোক্তারাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

এক্সক্লুসিভ আরও