দুর্গাসাগরে জলের আয়নায় পাপ ধোয়ার ভোর
মার্চ ২৬ ২০২৬, ২৩:৫৬
ভোরটা যেন একটু অন্যরকম ছিল মাধবপাশায়। কুয়াশা ভাঙা আলোয় দুর্গাসাগরের জল নিঃশব্দ, স্থির; অথচ চারপাশে মানুষের ঢেউ। তাদের কারো হাতে ধূপ, কারো হাতে ফুল। কেউ ভেজা গামছা কাঁধে নিয়ে নেমে পড়ছে জলে।
দূর গ্রাম থেকে আসা মানুষের ভিড় জমেছে দীঘির পাড়ে। কেউ ট্রলার ধরে, কেউ বাসে, কেউ বা হেঁটে। এই একদিন, অশোকাষ্টমীর ভোর, যেন সময়কে একটু পেছনে টেনে আনে। তাই পুণ্যার্থীদের সব পথ এসে মিশেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায় দুর্গাসাগরের এই জলরেখায়।
বিশ্বাস রয়েছে, এই জলে একবার ডুব দিলেই পাপ ধুয়ে যায়, মন হালকা হয়। সেই বিশ্বাসই হয়তো বছরের পর বছর মানুষকে ফিরিয়ে আনে এখানে।
এদিকে, স্নানোৎসব উপলক্ষে দুর্গাসাগরের পাড়ঘেঁষে বসেছে মেলা। বাঁশের খুঁটি, রঙিন ত্রিপল, হাতে তৈরি মাটির জিনিস, খেলনা, মিষ্টির দোকান।
পুণ্যস্নানের ভিড়ের পাশেই চলছে দরদাম, হাসি, গল্প। ধর্ম আর জীবিকার এই সহাবস্থান যেন গ্রামীণ জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।
দিলীপ রায় বলছিলেন, ‘এটা শুধু একটা অনুষ্ঠান নয়, আমাদের ঐতিহ্য। বহু বছর ধরে মানুষ এখানে আসছে, আসবেও।’ তার কথার ফাঁকে ভেসে আসছিল শঙ্খধ্বনি, আর জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ।
জলে নামার আগে কেউ চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করছেন। কেউ দু’হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে। আবার কেউ জলের ভেতরেই মাথা নত করে তর্পণ দিচ্ছেন পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে। একেকটা মুখে একেকটা গল্প, একেকটা স্মৃতি।
শোভন কর্মকারের মতো অনেকেই রয়েছেন, যাদের কাছে দিনটি একেবারেই ব্যক্তিগত। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। এখনও আসি। মনে হয়, না এলে কিছু একটা বাদ পড়ে যায়।’
তবে এই ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তির কথাও শোনা গেল। নারীদের জন্য আলাদা স্নানঘাট না থাকায় অনেকেই সংকোচে পড়ছেন। একই জায়গায় নারী-পুরুষের স্নান, তার সঙ্গে কিছু মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ছবি তোলায় পবিত্রতার আবহে খানিকটা অস্বস্তির ছায়া।
দীঘির ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, চন্দ্রদ্বীপের রাজা শিবনারায়ণ রায় খনন করেছিলেন এই বিশাল জলাশয়। নাম রাখা হয় রানী দুর্গাবতীর নামে, দুর্গাসাগর। প্রায় ৪৫ একর জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই জল শুধু জল নয়, সময়ের ধারক বলে মনে করেন পুণ্যার্থীরা।








































