উজিরপুরে ভূমি অফিসে
ঘুষ নেওয়ার ভিডিও করায় ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের অভিযোগ
অক্টোবর ১৯ ২০২৬, ২০:৪৪
বরিশালের উজিরপুরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূত লেনদেনের (ঘুষ নেওয়ার) অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ ও ভিডিও করার জেরে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মিরাজ হোসেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মিরাজ হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুর উপজেলায় কম্পিউটার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার নিকটাত্মীয়দের নামজারি ও মিউটেশনের কাজের জন্য ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানমের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন।
পরে কাজের অগ্রগতি জানতে গেলে তাকে বারবার ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে কাজ সম্পন্ন করতে টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়।
অভিযোগে মিরাজ দাবি করেন, কয়েক দফায় টাকা দেওয়ার পরও তার কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরে নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর যোগাযোগ করলে টাকা ছাড়া কাজ হবে না বলে জানানো হয়।
একপর্যায়ে তার কাছে আরও বেশি টাকা দাবি করা হয় এবং সেই টাকা অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধার কাছে দিতে বলা হয়।
মিরাজের ভাষ্য, আগে টাকা দেওয়ার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলে জানালে সুরাইয়া খানম সেই প্রমাণ দেখতে চান। পরে তিনি সুরাইয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পাঠান। এরপর সুরাইয়া খানম ও রাসেল মৃধা তাকে ডেকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে ভূমি অফিসের অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধা ও দলিল লেখক সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ সবুজের সঙ্গে এ বিষয়ে তার যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে মো. আজিজুল সিকদার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ডেকে সবুজের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে রাসেল মৃধা ও সবুজ তাকে আটকে রেখে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন মিরাজ।
অভিযোগকারীর দাবি, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে তিনি অভিযুক্তদের কাছে ক্ষমা চান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
মিরাজ হোসেন জানান, এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উজিরপুর মডেল থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও ছয়টি স্থিরচিত্রও সংযুক্ত করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানম বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। আমি এর লিখিত জবাব দেব। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ওই ভিডিওতে নেই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে আমাদের অফিসে নামজারির দালালি করতে আসেন।
এ বিষয়ে উজিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানম বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।









































