বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন!
বরিশালে কি মধু পেলেন শাহীন!
অক্টোবর ১১ ২০২৬, ২৩:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মোহরার পদে পুনরায় পদায়নকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ পদে ফিরতে আবেদন করেছেন বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন মহাফেজখানার নথি রক্ষক (মোহরার) মো. শাহীন হাওলাদার। অভিযোগ উঠেছে, একই পদে অন্য ব্যক্তিরাও আসতে ইচ্ছুক রয়েছে।
তবে শাহীন আগে আবেদন না করেও তার আবেদনটি কি ভাবে আগে মহাপরিদর্শক নিবন্ধন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ফাইল প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই পদে আসতে যাওয়া অন্যব্যক্তিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মো. শাহীন হাওলাদার দীর্ঘ প্রায় আট বছর বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মোহরার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সময় ওই কার্যালয়কে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে শাহীনের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁকে বাবুগঞ্জের রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি করা হয়েছিলো বলে জানা যায়। পরে তিনি কি মধু পেয়েছেন বরিশালে।
সেই প্রমান যেন দেখিয়ে দিলো কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ০৫/১১/২০২৫ তারিখ তিনি বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন মহাফেজখানার নথি রক্ষক বদলী হয়ে আসেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে সম্প্রতি বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার পদটি শূন্য হওয়ায় সেখানে পদায়ন পেতে আগ্রহী হন শাহীন হাওলাদার। কেন এ পদে আসার জন্য তিনি তদবির শুরু করেন মহাপরিদর্শক নিবন্ধন কার্যালয়ে।
একই পদে অন্য আরো আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। তাহলে অন্য আবেদনকারীদের কি কোন সুযোগ দেওয়া হবে না। নাকি শাহীন তিনি একাই ঘুরে ফুরে কিছু দিন পর পর ফের বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বদলী হয়ে আসবেন কর্মকার্তাদের ম্যানেজ করে। সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই পদে অন্য আবেদনকারীরা চলতি মাসের প্রথমেই আবেদন করেন। আর শাহীন হাওলাদার আবেদন তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মহাদেব চন্দ্র দাস আগে আবেদন করা ব্যক্তির ফাইল মহাপরিদর্শক নিবন্ধন কার্যালয়ে না পাঠিয়ে পরে আবেদন করা শাহীন হাওলাদারের ফাইলটি আগে পাঠিয়েছেন। যদি আবেদন দুটি একই পদে পদায়নের জন্য হয়ে থাকে এবং নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে এমন ক্রমবৈষম্য ঘটে থাকে, তাহলে এর পেছনে প্রশাসনিক যুক্তি কী ছিল—সে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে আবেদন গ্রহণ, নথি প্রেরণ এবং পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট বিধি বা অগ্রাধিকার নীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আবেদন দুটি গ্রহণের তারিখ, নথি প্রেরণের রেজিস্টার, ফাইলের গতিবিধি এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, পরবর্তী বদলি এবং পুনরায় একই কার্যালয়ে আবেদন—এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে মো. শাহীন হাওলাদার এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি চাইলেইও তো আসতে পারবো না। যদি কর্তৃপক্ষ আমাকে বদলী না করে। আমি কি ভাবে যাবো। অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহীন বলেন , ভাই ভুল মানুষে হয়।
তবে আমি কোন অনিয়মের সাথে এখন আর জড়িত নাই। বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের জন্য তার মুঠো ফোনে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।







































