বরিশাল জেলা যুবদলের
নতুন নেতৃত্ব ঘিরে তোড়জোড়, পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ!
সেপ্টেম্বর ২৩ ২০২৬, ২৩:৫৫
আরিফ হোসেন ॥ নয় বছর হয়ে যাচ্ছে, এখনো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবদল আহবায়ক কমিটি থেকে পূনাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। ২০১৭ সাল থেকে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে চলছে বরিশাল যুবদল। এই পরিস্থিতিতে নতুন কমিটি গঠনের আলোচনায় রয়েছে নতুন ও পুরানো মুখ। তবে শুনা যাচ্ছে পুরোনোরা এবং নতুনরাই এবার কমিটি প্রাধান্য পাবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সংগঠনটির অনেকে বলছেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, যুবদলের নেতৃত্বে যুবাদের আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
তবে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় যুবদলের বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে। সরগরম রয়েছে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন। নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কাদের দেখা যেতে পারে – তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা, যোগাযোগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং-তদবির।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় একাধিক নাম ঘুরে ফিরে আসছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো নামই চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত নয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
জেলা যুবদলে আলোচনায় যারা:
বরিশাল জেলা যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল আলম মিঠু, অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু, মো. বেলায়েত হোসেন ও কাজী স্বজল হাবিবুল্লাহসহ কয়েকজন। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন ২০১৭ সালে বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও হাফিজ আহমেদ বাবলু সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালে সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লবের মৃত্যুর পর তসলিম উদ্দিনের সাংগঠনিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়। ২০২৬ সালের জুনে তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ফলে জেলায় তার পদ নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তাই ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল আলম মিঠু সদ্য সাবেক অবিভক্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)। দলের দুঃসময়ে বরিশাল বিভাগে দায়িত্ব পালন, হামলা-মামলা ও রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূলের আলোচনায় এসেছে। অপরদিকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন জেলা যুবদলের (উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক কায়সার আহমেদ, জেলা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু এবং উত্তরের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু।
মহানগর যুবদলে পুরোনো-নতুনের প্রতিযোগিতা:
মহানগর যুবদলের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন মাসুদ হাসান মামুন, অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম জাহান, রেজাউল করিম রনি, আরিফুল ইসলাম মুন্না, আরিফুল ইসলাম জনি, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও মুশফিকুর রহমান অভি। মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বপদে বহাল রাখা হয়। এর আগে ২০২০ সালে তাকে বহিষ্কারের পর অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম জাহান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
হাইকমান্ডের নির্দেশনা ও তৃণমূলের প্রত্যাশা:
দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কঠিন বার্তা রয়েছে কমিটি গঠনের বিষয়ে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দলের দুঃসময়ে যারা হামলা-মামলা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের যেন বাদ না পড়ে। পাশাপাশি যারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরিবারের একই সাথে সম্পর্কিত এবং বিগত দিনে লিয়াজোঁ করে চলেছেন, তাদের বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি – ছাত্রদল থেকে বয়সের কারণে বাদ পড়া ত্যাগী নেতাদের যুবদলে সুযোগ দিতে হবে। বয়সের কারণে ছাত্রদল থেকে বাদ পড়া আরিফুল ইসলাম মুন্না ও আরিফুল ইসলাম জনির নাম এ ক্ষেত্রে বেশি আলোচনায় রয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করেন, যারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সুবিধাবাদী রাজনীতিতে ছিলেন, তারা যেন কমিটিতে না আসে। পুরোনো ও নতুনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠিত হোক।
যুবদলের দায়িত্বশীল সূত্রে জানিয়েছেন
উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদল একীভূত করে জেলা যুবদল গঠিত হচ্ছে। যে কারণে জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেড়েছে। তবে আগে যাঁরা পদে ছিলেন, তাঁদের শীর্ষ নেতৃত্বে রেখেই নতুন কমিটি এবার নতুন মুখও আসবে বলে ধারনা সকলের। তবে খুব শিগ্রই যুবদলের কমিটি ঘোষনা হতে পারে বলে একটি সূত্র জানায়। এই পরিস্থিতিতে জেলা যুবদলের সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আছেন অনেকে। তবে দলের এক নেতা বলেন, কিছু দিন পূর্বে ‘উত্তর ও দক্ষিণ যুবদল এক করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো কেন্দ্র। যে কারণে জেলা যুবদলের নেতৃত্বে আসা আমাদের অধিকার।’ তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। যে নেতারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সুবিধাবাদীতে ছিল, তারা যেন যুবদলের কমিটিতে না আসে। পুরোনো-নতুন মিলিয়ে কমিটি হোক। তা না হলে একচেটিয়া হয়ে দল দুর্বল হবে।’
অপরদিকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন জেলা যুবদলের (উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক কায়সার আহমেদ। যুবদলের উত্তরের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু তিনি রয়েছেন সক্রিয়। উত্তর জেলা যুবদলের আহবায়ক সালাউদ্দিন পিপলু তিনি জেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। তিনিও নেতাকর্মীদের আলোচনায় রয়েছেন। সাইয়েদুল আলম খান সেন্টু ও গোলাম মোর্শেদ মাসুদ,সুজন সহ আরো কয়েকজন রয়ে যুবদলের উত্তর কমিটির পদপ্রত্যাশী।
উত্তর-দক্ষিণের ভারসাম্য ও কেন্দ্রের অপেক্ষা:
বরিশালে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো থাকায় নতুন কমিটিতে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনেও এই ভারসাম্যের আলোচনা উঠে এসেছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের পর যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। প্রচলিত সাংগঠনিক ধারা অনুযায়ী ছাত্রদল থেকে যুবদলে নেতৃত্বের একটি অংশ উঠে আসে। তাই ছাত্রদলের নতুন কমিটির পর যুবদলে কারা জায়গা পান, সেদিকেই এখন সবার নজর। নতুন কমিটি পুরোনো নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, নাকি তরুণদের সামনে এনে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস করবে – সেই প্রশ্নের উত্তর এখন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।








































