ভারপ্রাপ্তদের ভাড়ে ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাদান ব্যাহত

অক্টোবর ১৬ ২০২৬, ০১:২৬

গৌরনদী প্রতিনিধি: ভারপ্রাপ্তদের ভাড়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাদান ব্যাহত হলেও বিষয়টি সমাধানের জন্য নেই কোন উদ্যোগ। দীর্ঘদিন থেকে নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়া এবং অবসরজনিত কারণে এসব পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টি স্কুলে দীর্ঘ বছর থেকে প্রধানশিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানশিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি করতে হচ্ছে। দাপ্তরিক কাজে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকদের নির্ধারিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাদের অনুপস্থিতিতে অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাঁপ তৈরি হচ্ছে এবং নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলার কুড়ির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক মো. জিয়াউল ইসলাম, ধানডোবা কাজী মোখলেছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক এইচএম জাকির হোসেন, নাঠৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক মো. শাহজালাল জমাদ্দারসহ একাধিক ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রধানশিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে তাদের একসঙ্গে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

তারা আরও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে প্রধানশিক্ষকের পদে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও পাঠদান নিশ্চিত করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও অতিরিক্ত কোনো সম্মানি দেওয়া হচ্ছেনা। তারা বলেন, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধানশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল হবে। একইসাথে পদোন্নতির কারণে শূন্য হওয়া সহকারী শিক্ষকের পদগুলোতে নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এতে শিক্ষকসংকট কমবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।

গৌরনদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম নুরুল আলম মৃধা বলেন, উপজেলার ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধানশিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নিয়োগ বা পদোন্নতির আদেশ পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের সম্মানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের চলতি দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মহাপরিচালক (ডিজি) মহোদয়ের আদেশ রয়েছে, তাদের কয়েকজন দায়িত্ব ভাতা পাচ্ছেন। তবে যারা শুধু ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের অনেকে কোনো ভাতা পাচ্ছেন না।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া