হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূ উদ্ধার, স্বামী ও শ্বশুর গ্রেপ্তার

জুন ১০ ২০২৬, ১৭:১৯

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে টমটমে করে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিপি বেগমের (২৮) স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ।স্থানীয়দের দাবি, গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে অভিযুক্ত পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলার ৬ নম্বর বাজার ইউনিয়নের চরহাসনাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী লিপি বেগম চরহাসনাবাদ এলাকার সিরাজ চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা ও শাহজামালের প্রথম স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে চরহাসনাবাদ এলাকা দিয়ে একটি টমটমে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লিপি বেগমকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা। এ সময় লিপি বেগম চিৎকার করলে আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং টমটমটি থামান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্থানীয়রা বাধা দিলে শাহজামাল ও তার বাবা তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা লিপি বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান এবং শাহজামাল ও মোসলেম মৃধাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে লিপি বেগমের ওপর পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা দেখে আসছেন। তাদের অভিযোগ, শাহজামালের বড় ভাই নুরুজ্জামান ভোলা জেলায় পুলিশে কর্মরত থাকায় তার প্রভাব খাটিয়ে পরিবারটি এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করত।তবে এই ঘটনায়এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঘটনায় আহত হেলাল মৃধা বলেন, লিপি বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছিল। সকালে তাকে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি বাধা দিতে গেলে শাহজামাল ও তার বাবা আমাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে আমি হাসপাতালে ভর্তি হই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

ভুক্তভোগী গৃহবধূ লিপি বেগম জানান,আমার  স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। আমার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করি। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমার ভাসুর পুলিশে চাকরি করেন বলে তার ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে আমার পরিবারকে দূরে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বুধবার সকালে আমাকে মারধর করার পর হাত-পা বেঁধে টমটমে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আমি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযুক্ত শাহজামাল বলেন, আমি দুটি বিয়ে করেছি। লিপি আমার প্রথম স্ত্রী। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশও হয়েছে। তবে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।

শ্বশুর মোসলেম মৃধা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার পুত্রবধূকে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

দশমিনা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

এক্সক্লুসিভ আরও