বরিশালে সরিষা ক্ষেতে মধুর নিরব বিপ্লব

মার্চ ০৩ ২০২৬, ০২:৫৭

  • “বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকাদার জানিয়েছেন, সরিষার আবাদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি মধু উৎপাদন বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে দক্ষিণাঞ্চল থেকেও মধু রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।’’

একসময় মধু আহরণের প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত ছিল সুন্দরবন। তবে সময়ের বিবর্তন ও কৃষি বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এখন সরিষা ও অন্যান্য তেল ফসলের জমি থেকেই ঘটছে মধু উৎপাদনের নিরব বিপ্লব। বিশেষ করে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে সরিষা ক্ষেতে মৌ-বাক্স স্থাপনের মাধ্যমে মধু আহরণে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর সরিষার আবাদি জমিতে ১৫ হাজারেরও বেশি মৌ-বাক্স বসানো হয়েছে। এসব বাক্স থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কেজি মধু উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি বছরই সরিষা ক্ষেতে মৌ-বাক্স স্থাপনের সংখ্যা বাড়ছে, ফলে উৎপাদনও বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে।

শুধু বরিশালই নয়, চলতি রবি মৌসুমে দেশে ২ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর সরিষা ও অন্যান্য তেলবীজের জমিতে প্রায় ২ লাখ মৌ-বাক্স বসানো হয়েছে। এসব বাক্স থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ লাখ কেজি মধু আহরিত হয়েছে, যা মৌসুম শেষে ২০ লাখ কেজি বা প্রায় ২ হাজার টনে উন্নীত হবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদরা।

মাঠপর্যায়ে প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মধুর বাজার তৈরি হয়েছে, যা খুচরা বাজারে দেড়শ থেকে পৌনে দুইশ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামে সরিষা ক্ষেতে সুদূর টাঙ্গাইল থেকে মৌ-বাক্স নিয়ে আসেন প্রশিক্ষিত মৌচাষি মো. আয়নাল ও তার ভাই মো. মুন্না খান। তাদের খামারে দেড় শতাধিক মৌ-বাক্স রয়েছে। প্রতিটি বাক্সে একটি করে রাণী মৌমাছি থাকে, যা প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার ডিম দেয়। ফলে দ্রুত বাড়ে মৌমাছির সংখ্যা। প্রতি সপ্তাহে একটি বাক্স থেকে গড়ে ২ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়।

স্থানীয়ভাবে তারা প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এমনকি ডাবরসহ বিভিন্ন নামী কোম্পানির প্রতিনিধিরাও সরাসরি মাঠ থেকে মধু সংগ্রহ করছেন।

মধু সংগ্রহের প্রক্রিয়াও বেশ বৈজ্ঞানিক। মৌমাছিরা প্রাকৃতিক মোম দিয়ে চাক তৈরি করে সেখানে মধু জমা করে। পরে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে চাক ঘুরিয়ে মধু সংগ্রহ করা হয় এবং চাক আবার বাক্সে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একটি চাক থেকে ৪-৫ বছর পর্যন্ত মধু আহরণ সম্ভব বলে জানান মৌচাষিরা।

ডিএই সারা দেশে সরিষা ও কালোজিরার ক্ষেতে মৌ-বাক্স স্থাপনে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে।

বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকাদার এর সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তিনি প্রতিবেদকে জানান, সরিষার আবাদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি মধু উৎপাদন বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে দক্ষিণাঞ্চল থেকেও মধু রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, মধু একটি প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামসহ নানা পুষ্টিগুণ। নিয়মিত ও পরিমিত মধু গ্রহণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধু না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে তেল ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ বরিশালসহ দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

বরিশাল
০৩-০৩-২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এক্সক্লুসিভ আরও