মরিচে স্বস্তি, ডিম-মুরগির দাম নাগালের বাইরে

আগস্ট ০৭ ২০২৬, ১৭:১১

রাজধানীর বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে স্বস্তি ফিরছে না ক্রেতাদের। মাছ, মুরগি, ডিম, সবজি ও মাংসের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় বেড়েই চলেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচা মরিচের দাম কমেছে। তবে ডিমের দাম বেড়েছে, মাছের দামও অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী। গরুর মাংসের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল থাকলেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। খাসির মাংসের কেজি এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বাজারভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও অধিকাংশ বাজারে দাম ২০০ টাকার কাছাকাছি। সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারেও টানা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বড় বাজারগুলোতে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫০ টাকা হলেও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও একই ডজন ডিমের দাম ছিল প্রায় ১৪০ টাকা।

মাছের বাজারেও বেড়েছে দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবিত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম মানভেদে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মুরগি বিক্রেতা মনসুর আহমেদ বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় মুরগির সরবরাহ কম থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লারের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে সোনালি মুরগির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

একই বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, পুকুরে চাষের মাছের পাইকারি দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের পুঁজিও আগের তুলনায় বেশি লাগছে।

অন্যদিকে কাঁচা মরিচের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি মরিচ ৪০০ টাকায় উঠলেও এখন তা ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এর ফলে এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা সুমন হাওলাদার বলেন, ভারতীয় মরিচ বাজারে আসায় দাম কমেছে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে অন্যান্য কৃষিপণ্যের সরবরাহ কম থাকায় সেগুলোর দাম এখনো বেশি।

কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মরিচের দাম কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু ডিম, সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম এখনও অনেক বেশি। ফলে সামগ্রিক বাজার খরচে তেমন কোনো স্বস্তি মিলছে না।

সবজির বাজারে কয়েকটি পণ্যের দামে সামান্য কমতি দেখা গেছে। লম্বা বেগুন এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। তবে গোল বেগুনের কেজি এখনও প্রায় ১৫০ টাকা। শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাল কুমড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং দেশি লাউ ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পেঁয়াজের দাম এখনও কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় স্থির রয়েছে। আলুর দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে কাঁচা মরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও ডিম, মাছ, মুরগি, মাংস ও অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে রাজধানীর সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি কমেনি। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও