বাবুগঞ্জে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে

“বাদসাহ” কে নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারী

মে ১২ ২০২৬, ২০:২০

শফিকুল ইসলাম,বাবুগঞ্জ : বাবুগঞ্জে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বড় গরু “বাদসাহ” কে নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারী। বিশাল আকৃতির এই গরুর খাবার, পরিচর্যা ও বিক্রি নিয়ে এখন হতাশায় দিন কাটছে তার।

বরিশালের বাবুগঞ্জে ৯ বছর ধরে বাদশাকে লালন-পালন করছেন বাবুগঞ্জ কেদারপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক কামরুল আহসান পলাশ। ফিজিয়ান জাতের বাদশার ওজন প্রায় ১৪০০ কেজি (৩৫ মণ)। নিজের সন্তানের মতো ৯ বছর ধরে লালন-পালন করা বাদশাকে এবার ঈদুল আজহার হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বাদশার উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, দৈর্ঘ্য ১২ ফুট।

১২ মে মঙ্গলবার উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামে গিয়ে দেখা মেলে ৩৫ মণের বাদশাকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরম যত্নে গরুটি লালন-পালন করে আসছেন যুবদল নেতা কামরুল আহসান পলাশ। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়ের নাম তিনি দিয়েছেন ‘বাদশা’।

দৈহিক গঠন ও সৌন্দর্যে সে যে কারও নজর কাড়বে সহজেই। তাকে প্রতিদিন খাওয়ানো হয় উন্নতমানের ভুট্টা, গম, ভুসি ও তাজা ঘাস। প্রতিদিন বাদশার পেছনে খাবার বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ৮০০ টাকা। গোসল করানো হয় শ্যাম্পু দিয়ে, আর গরমে আরাম দিতে রয়েছে বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা। বাদশাকে লালন-পালনকারী কামরুল আহসান পলাশ বলেন, কোনো ধরনের মোটাতাজা করণের ওষুধ ছাড়াই শুধু প্রাকৃতিক ঘাস, ভুষি, ভুট্টা, খড় খেয়েই বেড়ে উঠেছে আমাদের আদরের বাদশা।

৯ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতোই গরুটিকে লালন-পালন করে আসছি। আদর করে ডাকি বাদশা। এক বছর পর আজ গোয়ালঘর থেকে বাদশাকে বের করেছি। শখের কারণে বড় করেছি গরুটি। গত বছর কুরবানির হাটে নিয়েছিলাম তখন সাড়ে ১০ লাখ টাকা দাম হয়েছিলো। কিন্তু খরচের সাথে দামের মিল না পাওয়ায় গত বছর বিক্রি করিনি। তাই এবার বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজকে আমরা বাদশাকে নিয়ে ঢাকার কুরবানির হাটে যাবো। গরুটি বিক্রির জন্য দাম যাচ্ছি ১৫ লাখ টাকা।

স্থানীয় মোস্তফা দুয়ারীবলেন, গরুটি এতটাই বড় যে একা সামলানো সম্ভব হয়না। যখন গোয়াল থেকে বের করে তখন আমরা এলাকাবাসী ৮থেকে ১০ কয়েকজন মিলে বের করি। বাদশার বিশাল আকৃতি ও সৌন্দর্য দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ ভিড় করছেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, বাদশাকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। ফলে ফিজিয়ান জাতের গরুটি যেমন সুস্থ ও সবল, তেমনি মানবদেহের জন্যও সম্পূর্ণ নিরাপদ। হরমোন বা কৃত্রিম কোনো উপাদান ব্যবহার না করেই এত বড় গরু তৈরি করা নিঃসন্দেহে একটি দৃষ্টান্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও